যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ বহাল থাকা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি।
সোমবার (১০ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়ে পরবর্তী কোনো আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ‘ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড’ বন্ধ করতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ বা প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাকায়ি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের কারণে। তিনি বলেন, জলপথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিষয়।
ইরানের এই মুখপাত্র বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আরোপিত পরিস্থিতি এবং বিদ্যমান শর্তের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ চলমান থাকলে প্রণালি পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি হবে না।
তিনি আরও বলেন, আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকেই প্রথমে তাদের বর্তমান পদক্ষেপ বন্ধ করতে হবে এবং এর প্রতিকারের উদ্যোগ নিতে হবে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ইরান ট্রানজিট ফি আরোপ করতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বাকায়ি বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে বর্তমানে এ নিয়ে কোনো চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি।
তিনি জানান, নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা, পরিবেশগত বিষয় এবং সামুদ্রিক সেবা দেওয়ার পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব সেবার ক্ষেত্রে নির্ধারিত খরচ বা ফি থাকতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হরমুজ প্রণালীর কেন্দ্রীয় পথে মাইন অপসারণের বিষয়ে বাকায়ি একটি সমঝোতা স্মারকের কথা উল্লেখ করেন। তার দাবি, ওই চুক্তিতে জলপথের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় ইরানের ভূমিকার বিষয়টি উল্লেখ ছিল।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জলপথকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব উপকূলীয় দেশ ইরান ও ওমানের আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি