ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ধর্ম অবমাননায় সর্বোচ্চ শাস্তির আইনসহ সাদপন্থিদের ইজতেমা বন্ধের আহ্বান

ধর্ম অবমাননায় সর্বোচ্চ শাস্তির আইনসহ সাদপন্থিদের ইজতেমা বন্ধের আহ্বান
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নয় দফা দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। দাবিগুলোর মধ্যে আলেমদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, ধর্ম অবমাননার সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়ন এবং টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় সাদপন্থিদের অংশগ্রহণের অনুমতি না দেওয়ার বিষয় রয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় লিখিতভাবে এসব দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরে সংগঠনটি। হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মুহাম্মাদ সাজেদুর রহমান স্বাক্ষরিত দাবিপত্রটি হস্তান্তর করা হয়।

হেফাজতের দাবিতে মহান আল্লাহ, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি কোরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন প্রণয়ন না করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে হেফাজত। একই সঙ্গে ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি, নির্দেশদাতা ও হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টদের বিচার দাবি করা হয়েছে।

কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করার দাবিও রয়েছে। এর মাধ্যমে কওমি শিক্ষার্থীদের দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি চাকরির নিয়োগে দাওরায়ে হাদিসের সনদকে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

হেফাজতের অন্য দাবির মধ্যে কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা, হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের কথিত অপতৎপরতা বন্ধের বিষয়ও রয়েছে।

সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আলেমদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় দেশের আলেম-ওলামাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

তাবলিগ জামাত ও বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে হেফাজত জানিয়েছে, বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ও টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে। সংগঠনটি ভারতের মাওলানা সাদ সাহেবের বাংলাদেশে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার পাশাপাশি টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থিদের ইজতেমা আয়োজনের অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

রোববার বিকেল ৪টার দিকে বাবুনগর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ আলেমদের মতবিনিময় সভা শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৭০ জন বিশিষ্ট আলেম সভায় অংশ নেন।

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল, উত্তর চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রোববার দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে ফটিকছড়িতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাতের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী হেফাজত আমিরকে আলিঙ্গন করেন এবং তাঁর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তাঁর শারীরিক অবস্থারও খোঁজ নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ধর্ম অবমাননায় সর্বোচ্চ শাস্তির আইনসহ সাদপন্থিদের ইজতেমা বন্ধের আহ্বান

প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নয় দফা দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। দাবিগুলোর মধ্যে আলেমদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, ধর্ম অবমাননার সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়ন এবং টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় সাদপন্থিদের অংশগ্রহণের অনুমতি না দেওয়ার বিষয় রয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় লিখিতভাবে এসব দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরে সংগঠনটি। হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মুহাম্মাদ সাজেদুর রহমান স্বাক্ষরিত দাবিপত্রটি হস্তান্তর করা হয়।

হেফাজতের দাবিতে মহান আল্লাহ, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি কোরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন প্রণয়ন না করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে হেফাজত। একই সঙ্গে ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি, নির্দেশদাতা ও হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টদের বিচার দাবি করা হয়েছে।

কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করার দাবিও রয়েছে। এর মাধ্যমে কওমি শিক্ষার্থীদের দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি চাকরির নিয়োগে দাওরায়ে হাদিসের সনদকে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

হেফাজতের অন্য দাবির মধ্যে কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা, হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের কথিত অপতৎপরতা বন্ধের বিষয়ও রয়েছে।

সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আলেমদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় দেশের আলেম-ওলামাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

তাবলিগ জামাত ও বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে হেফাজত জানিয়েছে, বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ও টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে। সংগঠনটি ভারতের মাওলানা সাদ সাহেবের বাংলাদেশে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার পাশাপাশি টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থিদের ইজতেমা আয়োজনের অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

রোববার বিকেল ৪টার দিকে বাবুনগর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ আলেমদের মতবিনিময় সভা শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৭০ জন বিশিষ্ট আলেম সভায় অংশ নেন।

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল, উত্তর চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রোববার দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে ফটিকছড়িতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাতের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী হেফাজত আমিরকে আলিঙ্গন করেন এবং তাঁর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তাঁর শারীরিক অবস্থারও খোঁজ নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ