ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

চলতি অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এ সুবিধার আওতায় আসবে বলে জানান তিনি।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় এবং গৃহহীন ১০০ পরিবারের মধ্যে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোটে সরকার নির্বাচিত হয়েছে এবং জনগণের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব। সরকার গঠনের পর ফ্যামিলি কার্ড চালুর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা এক মাসের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। বাঁশখালীতে ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এই কার্ড পাবে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পরিবারের পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি নারীদেরও পরিবারের দায়িত্ব পালনে আরও সক্ষম করে তোলার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাঁশখালীর লবণচাষিরাও কৃষক কার্ডের সুবিধা পাবেন। লবণের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্র বাংলাদেশের অন্যতম বড় সম্পদ। পরিকল্পিতভাবে এই সম্পদ কাজে লাগাতে পারলে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো সম্ভব।

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর থেকে মিরসরাই পর্যন্ত শিল্প ও ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। আনোয়ারায় চীনা বিনিয়োগের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে কয়েক শ শিল্পকারখানা গড়ে উঠতে পারে। এর ফলে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান বাড়বে, বেকারত্ব কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।

শিল্পায়নের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিল্পকারখানা ছাড়া বড় পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব নয়। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং শিল্পায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা।

এ সময় বাঁশখালীর উপজেলা হাসপাতালকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। আগামী ১০ বছরের জন্য এ খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা করা উচিত নয়। কারও বিকল্প পরিকল্পনা থাকলে সেটি জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫৪ বছর পার হলেও দেশের উন্নয়নে আরও দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশের পরে স্বাধীন হয়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে গেছে। তাই এখন আর পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই।

জনগণের জীবনমান ও দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির কাছে জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। জনগণের সহযোগিতা থাকলে সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে কর্মক্ষম জনশক্তিতে পরিণত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, প্রত্যেক মানুষ কাজের মাধ্যমে নিজের এবং পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি করতে পারবে—এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ : চট্টগ্রাম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

চলতি অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এ সুবিধার আওতায় আসবে বলে জানান তিনি।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় এবং গৃহহীন ১০০ পরিবারের মধ্যে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোটে সরকার নির্বাচিত হয়েছে এবং জনগণের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব। সরকার গঠনের পর ফ্যামিলি কার্ড চালুর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা এক মাসের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। বাঁশখালীতে ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এই কার্ড পাবে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পরিবারের পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি নারীদেরও পরিবারের দায়িত্ব পালনে আরও সক্ষম করে তোলার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাঁশখালীর লবণচাষিরাও কৃষক কার্ডের সুবিধা পাবেন। লবণের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্র বাংলাদেশের অন্যতম বড় সম্পদ। পরিকল্পিতভাবে এই সম্পদ কাজে লাগাতে পারলে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো সম্ভব।

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর থেকে মিরসরাই পর্যন্ত শিল্প ও ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। আনোয়ারায় চীনা বিনিয়োগের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে কয়েক শ শিল্পকারখানা গড়ে উঠতে পারে। এর ফলে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান বাড়বে, বেকারত্ব কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।

শিল্পায়নের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিল্পকারখানা ছাড়া বড় পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব নয়। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং শিল্পায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা।

এ সময় বাঁশখালীর উপজেলা হাসপাতালকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। আগামী ১০ বছরের জন্য এ খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা করা উচিত নয়। কারও বিকল্প পরিকল্পনা থাকলে সেটি জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫৪ বছর পার হলেও দেশের উন্নয়নে আরও দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশের পরে স্বাধীন হয়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে গেছে। তাই এখন আর পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই।

জনগণের জীবনমান ও দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির কাছে জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। জনগণের সহযোগিতা থাকলে সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে কর্মক্ষম জনশক্তিতে পরিণত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, প্রত্যেক মানুষ কাজের মাধ্যমে নিজের এবং পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি করতে পারবে—এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ