চলচ্চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেফতার অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (৯ আগস্ট) শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে বিকেলে ডনকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পরিদর্শক আরিফুর রহমান।
রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী শুনানিতে বলেন, মামলার এই আসামি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আসামিপক্ষ থেকে কোনো জামিন আবেদন না থাকায় আদালত ডনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক, সামীরার মা লতিফা হক লিও ওরফে লুসি এবং অভিনেতা আশরাফুল হক ডনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়।
পরে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দেয় এবং তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সালমান শাহর মৃত্যু ও আগের তদন্ত
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে মারা যান চলচ্চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। তার মৃত্যুর পর বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন।
পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে ওই মামলাকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন তিনি। আদালত অপমৃত্যু ও হত্যার অভিযোগ একসঙ্গে তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করেন।
তবে সিআইডির সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হয়ে সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা করেন।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর গত বছরের ২০ অক্টোবর বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করেন ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক। একই সঙ্গে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।