দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বর্ষণ, দমকা হাওয়া এবং উত্তাল সাগরের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে।
হাতিয়া আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টাতেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
অবিরাম বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা, গ্রামীণ সড়ক, বাজার ও বসতবাড়ির আঙিনায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমেছে। চর ঈশ্বর, তমরদ্দি, চরকিং, সুখচর, নলচিরা ও জাহাজমারা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানির নিচে চলে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক এবং নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। কাজ বন্ধ থাকায় অনেক পরিবারের আয় কমে গেছে। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
টানা বর্ষণে কৃষি ও মৎস্য খাতেও ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকদের ভাষ্য, আমন ধানের বীজতলা ও মৌসুমি সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া অনেক মাছের ঘের ও পুকুর প্লাবিত হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন মৎস্যচাষিরা।
বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় উপকূলীয় নৌপথে চলাচলেও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। হাতিয়ার সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগকারী নৌরুটে ট্রলার ও স্পিডবোট চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার এবং নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন সহায়তার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।