প্রথম ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর শেয়ারদরে বড় ধরনের পতন হলেও স্পেসএক্সের প্রতি আস্থা ধরে রেখেছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। বরং শেয়ারের দাম কমে যাওয়াকে বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার লেনদেন শুরুর প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা প্রায় ২ কোটি ২৭ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের স্পেসএক্সের শেয়ার কিনেছেন।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভান্ডা রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ৩৭টি ট্রেডিং সেশনের মধ্যে এটি প্রথম ঘণ্টায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের তৃতীয় সর্বোচ্চ শেয়ার কেনার ঘটনা।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর শেয়ারের মূল্য কমলেও ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীরা বিক্রির পরিবর্তে কম দামে শেয়ার সংগ্রহে আগ্রহ দেখিয়েছেন। এ ধারা অব্যাহত থাকলে দিনটি স্পেসএক্সের ইতিহাসে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেট শেয়ার কেনার দিন হিসেবে রেকর্ড হতে পারে। এর আগে গত ১৬ জুন একদিনে প্রায় ১৪ কোটি ৪৬ লাখ ডলার মূল্যের নেট শেয়ার কেনা হয়েছিল।
স্পেসএক্স গত ১২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ প্রাথমিক শেয়ার ছাড় (আইপিও) সম্পন্ন করে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। সে সময় প্রতি শেয়ারের ইস্যু মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩৫ মার্কিন ডলার। তালিকাভুক্তির পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ট্রেডিং সেশনেই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা নেট হিসাবে শেয়ার বিক্রি করেননি।
তবে প্রথম আর্নিংস রিপোর্ট প্রকাশের পর একপর্যায়ে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ১২ দশমিক ৯ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, কোম্পানির স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা থেকে অর্জিত আয় ভবিষ্যতে ব্যয়বহুল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ ধরে রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত স্পেসএক্সের ১ হাজার ৫০ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি কেনা শেয়ারের তালিকায় শীর্ষে ছিল স্পেসএক্স। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এএমডি, যার শেয়ারদরও ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যায়।