লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের চলমান সামরিক হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতময় পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ জোটে ফাটল ধরানোর কৌশল নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, তেহরান লেবানন পরিস্থিতিকে একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে দূরত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুশতাই আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান বর্তমানে লেবাননকে ব্যবহার করছে যেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যকার মতবিরোধ আরও গভীর হয়।
তার মতে, আপাতদৃষ্টিতে তেহরানের লক্ষ্য দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলা বন্ধ করা মনে হলেও বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন। কারণ, ইসরাইলের ওপর আঘাত এলে তারা প্রতিক্রিয়া জানাবে—এটাই বর্তমান বাস্তবতা।
বিশ্লেষকদের আরেকটি অংশের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগ ও যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টা কিছুটা সময়ের জন্য ইসরাইলকে সংযত রাখলেও, যেকোনো উসকানি বা হামলার জবাবে তেল আবিব কঠোর প্রতিক্রিয়া দিতে পারে।
এই জটিল পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কৌশলগত সম্পর্ককে দুর্বল করার সুযোগ দেখছে ইরান। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, তেহরানের মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের দীর্ঘদিনের সামরিক ও রাজনৈতিক জোটে বিভাজন সৃষ্টি করা এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যে প্রভাব বিস্তার করা।
সূত্র: আল জাজিরা