ঢাকা    বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ ৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

‘হেযবুত তাওহীদ’ নিষিদ্ধের দাবি হেফাজতে ইসলামের

‘হেযবুত তাওহীদ’ নিষিদ্ধের দাবি হেফাজতে ইসলামের
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

‘হেযবুত তাওহীদ’কে ‘ঈমান বিধ্বংসী’ ও ‘জঙ্গি সংগঠন’ হিসেবে উল্লেখ করে কালো তালিকাভুক্ত এবং নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত ইসলামি মহাসমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

জমইয়্যাতুল মাদারিসিল কওমিয়া নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর ও ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির যৌথ উদ্যোগে মহাসমাবেশটির আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী অভিযোগ করেন, হেযবুত তাওহীদ সেবামূলক কর্মকাণ্ডের আড়ালে মুসলমানদের ঈমানচ্যুত করছে।

তার দাবি, সংগঠনটির কার্যক্রমের কারণে ওলামায়ে কেরাম ও তাওহিদি জনতার চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হচ্ছে এবং দেশের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হচ্ছে। এ অবস্থায় তিনি সংগঠনটিকে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।

সমাবেশের দুই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জমইয়্যাতুল মাদারিসিল কওমিয়া নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরের সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলা আমির মাওলানা নিজাম উদ্দিন। যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মুফতি মুঈনুদ্দিন তৈয়বপুরী ও মাওলানা মহিউদ্দিন।

সমাবেশে বক্তব্য দেন জামিয়া আহলিয়া দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক আল্লামা খলিল আহমদ কুরাইশী, খতমে নবুওত সংরক্ষণ কমিটির আমির আল্লামা আব্দুল হামিদ মধুপুরী এবং ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরার মহাপরিচালক মুফতি আরশাদ রহমানী।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন জামেয়া ওবায়দিয়া নানুপুরের মুহতামিম আল্লামা সালাউদ্দিন নানুপুরী, মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আল্লামা মুফতি মুস্তাকুন্নবী কাসেমী, হেফাজতের কেন্দ্রীয় মহাসচিব শায়খ সাজিদুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিমসহ অন্যরা।

সমাবেশে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদ আজাদ, ব্যবসায়ী নেতা মো. ইকরাম উল্লাহ ডিপটিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সংহতি প্রকাশ করেন।

বক্তারা হেযবুত তাওহীদকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং সংগঠনটির প্রকাশিত বই, পত্রপত্রিকা ও ওয়েবসাইট বন্ধ করার দাবি জানান।

নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে অভিযোগ করা ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন মুসলমানের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও তোলা হয়।

দাবি বাস্তবায়নে দেশব্যাপী ওলামায়ে কেরাম ও তাওহিদি জনতার সমন্বয়ে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন এবং জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হেযবুত তাওহীদের কার্যক্রম নিয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে সেমিনার, মাহফিল ও মতবিনিময় সভাসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের কথাও জানান আয়োজকেরা।

তবে হেফাজতে ইসলামের উত্থাপিত অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে হেযবুত তাওহীদের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

সূত্র: এনপিবি নিউজ

ট্যাগ : নোয়াখালী হেফাজতে ইসলাম হেযবুত তাওহীদ

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


‘হেযবুত তাওহীদ’ নিষিদ্ধের দাবি হেফাজতে ইসলামের

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

‘হেযবুত তাওহীদ’কে ‘ঈমান বিধ্বংসী’ ও ‘জঙ্গি সংগঠন’ হিসেবে উল্লেখ করে কালো তালিকাভুক্ত এবং নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত ইসলামি মহাসমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

জমইয়্যাতুল মাদারিসিল কওমিয়া নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর ও ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির যৌথ উদ্যোগে মহাসমাবেশটির আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী অভিযোগ করেন, হেযবুত তাওহীদ সেবামূলক কর্মকাণ্ডের আড়ালে মুসলমানদের ঈমানচ্যুত করছে।

তার দাবি, সংগঠনটির কার্যক্রমের কারণে ওলামায়ে কেরাম ও তাওহিদি জনতার চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হচ্ছে এবং দেশের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হচ্ছে। এ অবস্থায় তিনি সংগঠনটিকে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।

সমাবেশের দুই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জমইয়্যাতুল মাদারিসিল কওমিয়া নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরের সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলা আমির মাওলানা নিজাম উদ্দিন। যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মুফতি মুঈনুদ্দিন তৈয়বপুরী ও মাওলানা মহিউদ্দিন।

সমাবেশে বক্তব্য দেন জামিয়া আহলিয়া দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক আল্লামা খলিল আহমদ কুরাইশী, খতমে নবুওত সংরক্ষণ কমিটির আমির আল্লামা আব্দুল হামিদ মধুপুরী এবং ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরার মহাপরিচালক মুফতি আরশাদ রহমানী।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন জামেয়া ওবায়দিয়া নানুপুরের মুহতামিম আল্লামা সালাউদ্দিন নানুপুরী, মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আল্লামা মুফতি মুস্তাকুন্নবী কাসেমী, হেফাজতের কেন্দ্রীয় মহাসচিব শায়খ সাজিদুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিমসহ অন্যরা।

সমাবেশে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদ আজাদ, ব্যবসায়ী নেতা মো. ইকরাম উল্লাহ ডিপটিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সংহতি প্রকাশ করেন।

বক্তারা হেযবুত তাওহীদকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং সংগঠনটির প্রকাশিত বই, পত্রপত্রিকা ও ওয়েবসাইট বন্ধ করার দাবি জানান।

নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে অভিযোগ করা ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন মুসলমানের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও তোলা হয়।

দাবি বাস্তবায়নে দেশব্যাপী ওলামায়ে কেরাম ও তাওহিদি জনতার সমন্বয়ে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন এবং জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হেযবুত তাওহীদের কার্যক্রম নিয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে সেমিনার, মাহফিল ও মতবিনিময় সভাসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের কথাও জানান আয়োজকেরা।

তবে হেফাজতে ইসলামের উত্থাপিত অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে হেযবুত তাওহীদের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

সূত্র: এনপিবি নিউজ


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ