ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ ২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বর্তমান সংসদ ‘মজলুমের সংসদ’: ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

বর্তমান সংসদ ‘মজলুমের সংসদ’: ভারপ্রাপ্ত স্পিকার
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

বর্তমান জাতীয় সংসদকে ‘মজলুমের সংসদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তার ভাষ্য, সংসদের অধিকাংশ সদস্য অতীতে গুম, কারাবন্দি, নির্যাতন, নির্বাসন কিংবা মৃত্যুদণ্ডের হুমকিসহ নানা ধরনের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের প্রায় ৯৯ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে রাজনৈতিক নির্যাতনের অভিজ্ঞতা বহন করছেন। এমন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সংসদ বিশ্ব ইতিহাসেও বিরল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশার বড় অংশ এখন জাতীয় সংসদকে ঘিরে। জনগণ চায়, তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যুক্তিনির্ভর আলোচনা, মতবিনিময় ও গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন।

তার মতে, বর্তমান সংসদের ওপর মানুষের প্রত্যাশা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। প্রযুক্তির প্রসারের কারণে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও মোবাইল ফোনে সংসদের কার্যক্রম অনুসরণ করছেন। ফলে সংসদ সদস্যদের বক্তব্য, সিদ্ধান্ত ও আচরণ সরাসরি জনসাধারণের পর্যবেক্ষণের মধ্যে রয়েছে।

সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখার অঙ্গীকার করে কায়সার কামাল বলেন, যতদিন দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন, ততদিন সব পক্ষকে সমান সুযোগ দিয়ে সংসদ পরিচালনার চেষ্টা করবেন।

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকারি ও বিরোধী দলের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন, সাম্য ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে উভয় পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

জাতীয় সংসদকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল কেন্দ্র উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। সংসদে আইন প্রণীত হয়, নির্বাহী বিভাগ তা বাস্তবায়ন করে এবং বিচার বিভাগ আইনের প্রয়োগ ও সীমাবদ্ধতা পর্যালোচনা করে।

তিনি বলেন, সংসদে সরকারি দল নিজেদের নীতি তুলে ধরবে এবং বিরোধী দল স্বাধীনভাবে সমালোচনা করবে। মতপার্থক্য, যুক্তি ও বিতর্কের মধ্য দিয়েই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারিত হওয়া উচিত।

যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, পাকিস্তান ও ভারতের সংসদীয় ব্যবস্থার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশেও সংসদীয় আলোচনা ও সমালোচনার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি গড়ে ওঠা প্রয়োজন।

কায়সার কামাল আশা প্রকাশ করেন, জাতীয় সংসদ দেশের রাজনীতি, উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের আকাঙ্ক্ষা এবং সাধারণ মানুষের দেশ গড়ার স্বপ্নও সংসদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে বলে মনে করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়েও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে জনগণের যে প্রত্যাশা ছিল, তা দীর্ঘ সময় পূরণ হয়নি।

১৯৭৫ সালে একদলীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, পরবর্তী সামরিক শাসন, ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ওয়ান-ইলেভেন এবং ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন নির্বাচন ও রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন তিনি।

কায়সার কামাল বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও প্রাণহানির মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোগে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

ট্যাগ : জাতীয় সংসদ কায়সার কামাল ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বর্তমান সংসদ ‘মজলুমের সংসদ’: ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বর্তমান জাতীয় সংসদকে ‘মজলুমের সংসদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তার ভাষ্য, সংসদের অধিকাংশ সদস্য অতীতে গুম, কারাবন্দি, নির্যাতন, নির্বাসন কিংবা মৃত্যুদণ্ডের হুমকিসহ নানা ধরনের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের প্রায় ৯৯ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে রাজনৈতিক নির্যাতনের অভিজ্ঞতা বহন করছেন। এমন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সংসদ বিশ্ব ইতিহাসেও বিরল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশার বড় অংশ এখন জাতীয় সংসদকে ঘিরে। জনগণ চায়, তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যুক্তিনির্ভর আলোচনা, মতবিনিময় ও গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন।

তার মতে, বর্তমান সংসদের ওপর মানুষের প্রত্যাশা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। প্রযুক্তির প্রসারের কারণে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও মোবাইল ফোনে সংসদের কার্যক্রম অনুসরণ করছেন। ফলে সংসদ সদস্যদের বক্তব্য, সিদ্ধান্ত ও আচরণ সরাসরি জনসাধারণের পর্যবেক্ষণের মধ্যে রয়েছে।

সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখার অঙ্গীকার করে কায়সার কামাল বলেন, যতদিন দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন, ততদিন সব পক্ষকে সমান সুযোগ দিয়ে সংসদ পরিচালনার চেষ্টা করবেন।

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকারি ও বিরোধী দলের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন, সাম্য ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে উভয় পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

জাতীয় সংসদকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল কেন্দ্র উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। সংসদে আইন প্রণীত হয়, নির্বাহী বিভাগ তা বাস্তবায়ন করে এবং বিচার বিভাগ আইনের প্রয়োগ ও সীমাবদ্ধতা পর্যালোচনা করে।

তিনি বলেন, সংসদে সরকারি দল নিজেদের নীতি তুলে ধরবে এবং বিরোধী দল স্বাধীনভাবে সমালোচনা করবে। মতপার্থক্য, যুক্তি ও বিতর্কের মধ্য দিয়েই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারিত হওয়া উচিত।

যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, পাকিস্তান ও ভারতের সংসদীয় ব্যবস্থার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশেও সংসদীয় আলোচনা ও সমালোচনার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি গড়ে ওঠা প্রয়োজন।

কায়সার কামাল আশা প্রকাশ করেন, জাতীয় সংসদ দেশের রাজনীতি, উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের আকাঙ্ক্ষা এবং সাধারণ মানুষের দেশ গড়ার স্বপ্নও সংসদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে বলে মনে করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়েও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে জনগণের যে প্রত্যাশা ছিল, তা দীর্ঘ সময় পূরণ হয়নি।

১৯৭৫ সালে একদলীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, পরবর্তী সামরিক শাসন, ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ওয়ান-ইলেভেন এবং ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন নির্বাচন ও রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন তিনি।

কায়সার কামাল বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও প্রাণহানির মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোগে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ