গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। শুক্রবার দেইর আল-বালাহ, নুসেইরাত, খান ইউনিস, গাজা সিটি ও জাবালিয়াসহ একাধিক এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়।
ফিলিস্তিনি চিকিৎসা সূত্রের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর আবু আরিফ সড়কে হামলায় ৩৩ বছর বয়সী মাহমুদ মোহাম্মদ ফাতায়ের নিহত হন।
একই এলাকার সালাহ আল-দিন সড়কে পৃথক হামলায় ৩৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ আবদেল নাসের আল-খাতিব নিহত হয়েছেন। তাদের মরদেহ শুহাদা আল-আকসা হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আবু আরিফ সড়কে বেসামরিক মানুষের একটি দলকে লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলায় আরও দুজন আহত হন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থীশিবিরের পূর্ব পাশে একটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, হামলার আগে ফোন করে ভবনের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে আল-হাওয়াজরি পরিবারের বহুতল ভবনটি ধ্বংস করা হয়।
দেইর আল-বালাহর দক্ষিণাঞ্চলে একটি বাড়িতে হামলায় ভবনটি বিধ্বস্ত হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাসলাহ এলাকায় ড্রোন হামলায়ও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
আল-আলাম ও আবু হামিদ গোলচত্বরের কাছে ইসরায়েলি সামরিক যান থেকে গুলি চালানো হলে দুজন আহত হন বলে চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে।
উত্তর গাজা সিটির আল-সাফতাউই এলাকায় হামলায় চারজন আহত হয়েছেন। গাজা সিটির উত্তর-পশ্চিমে ড্রোন হামলায় এক নারী ও এক শিশু আহত হন। জাবালিয়া ও গাজা সিটিতে কোয়াডকপ্টারের গুলিতেও পৃথকভাবে দুজন আহত হয়েছেন।
এমন সময়ে নতুন এসব হামলার খবর এলো, যখন গাজায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহার নিয়ে একটি সমঝোতার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বাস্তবায়নের ক্রম ও শর্ত নিয়ে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ১ হাজার ২০৯ জন নিহত এবং ৩ হাজার ৯৪৩ জন আহত হয়েছেন। এই পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা যুদ্ধে গাজায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ সংঘাতে আবাসিক ভবন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি