বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জার্সিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কাসেমিরো। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নিজের ক্লাব ভবিষ্যৎ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মৌসুমে লিওনেল মেসির সঙ্গে ইন্টার মায়ামির ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করবেন তিনি।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ইন্টার মায়ামির সঙ্গে মৌখিক সমঝোতায় পৌঁছেছেন ৩৪ বছর বয়সী কাসেমিরো। জুনের শেষে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ইংলিশ ক্লাবটি নতুন চুক্তির প্রস্তাব দিলেও সেটি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
এর ফলে ইউরোপীয় ফুটবলে দীর্ঘ ১৩ বছরের অধ্যায় শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে যাচ্ছেন কাসেমিরো। দুই পক্ষের আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। এখন বাকি আনুষ্ঠানিক কাগজপত্রে স্বাক্ষর এবং ক্লাবের ঘোষণার অপেক্ষা।
চুক্তি সম্পন্ন হলে ইন্টার মায়ামির মিডফিল্ডে বড় শক্তি যোগ হবে। মেসির নেতৃত্বাধীন দলটি কাসেমিরোর অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বগুণ এবং রক্ষণাত্মক দক্ষতা কাজে লাগাতে চাইছে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে নিজের শেষ মৌসুমে ভালো ছন্দে ছিলেন কাসেমিরো। প্রিমিয়ার লিগে ৩৪ ম্যাচে ৯ গোল করেছেন তিনি, যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা গোলসংখ্যার মৌসুম।
শুধু ফুটবলীয় কারণ নয়, ব্যক্তিগত দিকও কাসেমিরোর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। পরিবারের জন্য মায়ামির পরিবেশকে বেশি উপযোগী মনে করছেন তিনি। বিশেষ করে সন্তানের বেড়ে ওঠার বিষয়টি তার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এ কারণেই সৌদি আরবের ক্লাব আল-ইত্তিহাদের আকর্ষণীয় প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার। একই সঙ্গে লিওনেল মেসির সঙ্গে একই দলে খেলার সুযোগও তাকে ইন্টার মায়ামির দিকে ঝুঁকতে প্রভাবিত করেছে।
২০১৩ সালে রিয়াল মাদ্রিদের দ্বিতীয় দলে যোগ দিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলে যাত্রা শুরু করেন কাসেমিরো। পরে পোর্তোতে ধারে খেলে নিজেকে প্রমাণ করেন। ২০১৫ সালে রিয়াল মাদ্রিদ তাকে মূল দলে ফিরিয়ে আনে। এরপর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে খেলেছেন এবং ক্লাবটির হয়ে জিতেছেন ১৮টি শিরোপা।
বর্তমানে ব্রাজিলের হয়ে নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলছেন কাসেমিরো। মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ এবং হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে শুরুর একাদশে ছিলেন তিনি। বিশ্বকাপের মাঝেই তার সম্ভাব্য ক্লাব পরিবর্তনের খবর ফুটবল অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।