ঢাকা    শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের লক্ষ্য

১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের লক্ষ্য
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টার্মিনালটি চালু করতে জাপানের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি বিমান পরিবহন খাতে চলমান বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করছে।

প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, সময়সীমা সামনে রেখে দ্রুত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া জরুরি। এ জন্য জাপানিজ স্টেকহোল্ডার ওয়ার্কিং গ্রুপের দরপত্র প্রক্রিয়া আগামী মাসের মধ্যে শেষ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, জাপান বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণেও জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রকল্পটি সময়মতো চালু করতে জাপানের সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আশা প্রকাশ করেন। তৃতীয় টার্মিনালসহ বাংলাদেশে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

বৈঠক শেষে ঢাকা-নারিতা রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালুর বিষয়টি স্মরণীয় করে রাখতে উনো ইয়োশিমাসার হাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের একটি মডেল তুলে দেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দেশের অন্যতম বড় বিমানবন্দর অবকাঠামো প্রকল্প। প্রায় ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি ঋণ সহায়তা দিচ্ছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা, জাইকা।

জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন ও ফুজিতা করপোরেশন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সি অ্যান্ড টি করপোরেশনের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ উদ্যোগ প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে।

তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বর্তমানে বিমানবন্দরটি বছরে প্রায় ৮০ লাখ যাত্রীকে সেবা দিতে পারে। নতুন টার্মিনাল চালুর পর এ সক্ষমতা প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ যাত্রীতে উন্নীত হওয়ার কথা।

এ ছাড়া কার্গো পরিবহন সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি আধুনিক ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা, স্বয়ংক্রিয় ইমিগ্রেশন, উন্নত নিরাপত্তা, বেশি বোর্ডিং ব্রিজ এবং আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত হবে।

ট্যাগ : বাংলাদেশ জাপান সম্পর্ক বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের লক্ষ্য

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টার্মিনালটি চালু করতে জাপানের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি বিমান পরিবহন খাতে চলমান বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করছে।

প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, সময়সীমা সামনে রেখে দ্রুত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া জরুরি। এ জন্য জাপানিজ স্টেকহোল্ডার ওয়ার্কিং গ্রুপের দরপত্র প্রক্রিয়া আগামী মাসের মধ্যে শেষ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, জাপান বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণেও জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রকল্পটি সময়মতো চালু করতে জাপানের সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আশা প্রকাশ করেন। তৃতীয় টার্মিনালসহ বাংলাদেশে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

বৈঠক শেষে ঢাকা-নারিতা রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালুর বিষয়টি স্মরণীয় করে রাখতে উনো ইয়োশিমাসার হাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের একটি মডেল তুলে দেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দেশের অন্যতম বড় বিমানবন্দর অবকাঠামো প্রকল্প। প্রায় ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি ঋণ সহায়তা দিচ্ছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা, জাইকা।

জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন ও ফুজিতা করপোরেশন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সি অ্যান্ড টি করপোরেশনের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ উদ্যোগ প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে।

তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বর্তমানে বিমানবন্দরটি বছরে প্রায় ৮০ লাখ যাত্রীকে সেবা দিতে পারে। নতুন টার্মিনাল চালুর পর এ সক্ষমতা প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ যাত্রীতে উন্নীত হওয়ার কথা।

এ ছাড়া কার্গো পরিবহন সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি আধুনিক ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা, স্বয়ংক্রিয় ইমিগ্রেশন, উন্নত নিরাপত্তা, বেশি বোর্ডিং ব্রিজ এবং আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত হবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ