ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে বড় পরিকল্পনার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে বড় পরিকল্পনার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ, মেধাবী, সুশৃঙ্খল ও আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তোলাকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির সমন্বিত বিকাশই দেশের টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মূল ভিত্তি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ক্রীড়াকে শুধু শরীরচর্চা বা বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা জানান। তিনি বলেন, একটি সুস্থ, মানবিক ও উদ্যমী সমাজ গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ক্রীড়াকে মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধির কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করছে। এ লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ তৈরিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম থেকে দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে আটটি ইভেন্ট সফলভাবে আয়োজনের পর আগামী ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে প্রথম আসরের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের খুঁজে বের করে তাদের দক্ষতা বিকাশের জন্য একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো তৈরি করবে। দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে তিনি শুভেচ্ছা জানান।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। তাই শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং ইতিবাচক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। ক্রীড়াচর্চা শৃঙ্খলা, অধ্যবসায়, নেতৃত্ব, সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দেশপ্রেমের মতো গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলি অর্জনে সহায়তা করে।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, যার মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, পরিচর্যা ও বিকাশের জাতীয় কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই কর্মসূচি জাতীয় দল এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্বকারী খেলোয়াড় তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সরকার দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-তে ভর্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এমন ক্রীড়া পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে যেখানে প্রতিভা, পরিশ্রম ও যোগ্যতাই সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’ আসরে টেবিল টেনিস ও ভলিবল যুক্ত করা হবে। এর ফলে ইভেন্টের সংখ্যা বেড়ে ১০-এ উন্নীত হবে। পাশাপাশি আরও বেশি সংখ্যক প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করতে অংশগ্রহণকারীদের বয়সসীমা ১০ থেকে ১৪ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ অংশ নেওয়া খুদে খেলোয়াড়রাই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা গৌরবের সঙ্গে বহন করবে এবং দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনবে।

পোস্টের শেষে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর প্রথম আসরে অংশ নেওয়া সব শিশু-কিশোর ক্রীড়াবিদ, প্রশিক্ষক, বিচারক, আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন তিনি।

ট্যাগ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে বড় পরিকল্পনার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ, মেধাবী, সুশৃঙ্খল ও আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তোলাকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির সমন্বিত বিকাশই দেশের টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মূল ভিত্তি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ক্রীড়াকে শুধু শরীরচর্চা বা বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা জানান। তিনি বলেন, একটি সুস্থ, মানবিক ও উদ্যমী সমাজ গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ক্রীড়াকে মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধির কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করছে। এ লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ তৈরিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম থেকে দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে আটটি ইভেন্ট সফলভাবে আয়োজনের পর আগামী ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে প্রথম আসরের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের খুঁজে বের করে তাদের দক্ষতা বিকাশের জন্য একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো তৈরি করবে। দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে তিনি শুভেচ্ছা জানান।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। তাই শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং ইতিবাচক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। ক্রীড়াচর্চা শৃঙ্খলা, অধ্যবসায়, নেতৃত্ব, সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দেশপ্রেমের মতো গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলি অর্জনে সহায়তা করে।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, যার মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, পরিচর্যা ও বিকাশের জাতীয় কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই কর্মসূচি জাতীয় দল এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্বকারী খেলোয়াড় তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সরকার দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-তে ভর্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এমন ক্রীড়া পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে যেখানে প্রতিভা, পরিশ্রম ও যোগ্যতাই সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’ আসরে টেবিল টেনিস ও ভলিবল যুক্ত করা হবে। এর ফলে ইভেন্টের সংখ্যা বেড়ে ১০-এ উন্নীত হবে। পাশাপাশি আরও বেশি সংখ্যক প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করতে অংশগ্রহণকারীদের বয়সসীমা ১০ থেকে ১৪ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ অংশ নেওয়া খুদে খেলোয়াড়রাই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা গৌরবের সঙ্গে বহন করবে এবং দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনবে।

পোস্টের শেষে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর প্রথম আসরে অংশ নেওয়া সব শিশু-কিশোর ক্রীড়াবিদ, প্রশিক্ষক, বিচারক, আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন তিনি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ