বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারত। বাংলাদেশ মিশনে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ অবস্থান জানান মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিক বলেন, বাংলাদেশ নয়াদিল্লি ও কলকাতার কূটনৈতিক মিশনে দুজন সংবাদকর্মীকে প্রেস কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। অতীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ভারতবিরোধী পোস্ট করার অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে এ বিষয়ে নয়াদিল্লির প্রতিক্রিয়া জানতে চান তিনি।
জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, দুই কর্মকর্তা নিয়োগের তথ্য ভারতকে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে কাজ করে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী নয়াদিল্লি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অতীতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কার্যক্রম নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে মুখপাত্র বলেন, এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে তখন জানানোর মতো কোনো তথ্য নেই। উপযুক্ত সময়ে প্রয়োজনীয় ঘোষণা দেওয়া হবে।
বাংলাদেশের একজন মন্ত্রী এর আগে তারেক রহমানকে সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন রাষ্ট্রদূতের সম্ভাব্য ঢাকা সফর নিয়ে করা প্রশ্নে জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
ব্রিফিংয়ে ভারতের চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনে বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগও ওঠে। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বিষয়টি নিয়ে জানানোর মতো কোনো তথ্য তার কাছে নেই।
এ ছাড়া আসিয়ান ফোরামে পাকিস্তানের তোলা বিভিন্ন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন জয়সওয়াল। সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তান বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ীভাবে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধ না করা পর্যন্ত চুক্তিটি স্থগিত থাকবে।
চেনাব নদীর পানি ছেড়ে ভারত ইচ্ছাকৃতভাবে পাকিস্তানে বন্যা সৃষ্টি করেছে—এমন অভিযোগও নাকচ করেন তিনি। জয়সওয়ালের দাবি, ২০ থেকে ২৩ জুলাই জম্মু ও উজানের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে নদীর পানি বেড়েছিল। এটি ছিল স্বাভাবিক জলবিদ্যাগত প্রতিক্রিয়া।
চীনের সঙ্গে ভূখণ্ডগত বিরোধ প্রসঙ্গে জয়সওয়াল ভারতের প্রচলিত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। ভারতের দাবি করা ভূখণ্ডে চীনের অবকাঠামো নির্মাণের বিরোধিতাও জানান তিনি।