ঢাকা    রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

আবাসন খাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিহ্যাবের ৬ প্রস্তাব

আবাসন খাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিহ্যাবের ৬ প্রস্তাব
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

দেশের আবাসন খাতের উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে ছয় দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।

বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করেন রিহ্যাব সভাপতি ড. আলী আফজালের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল।

বৈঠকে রিহ্যাব সভাপতি বলেন, সরকার স্বীকৃত আবাসন খাতের ট্রেডবডি হিসেবে সংগঠনটি ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন উন্নয়নে কাজ করছে। তার দাবি, আবাসন খাত ও সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোতে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে এবং দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে এ খাতের অবদান প্রায় ১৫ শতাংশ।

তিনি বলেন, সিমেন্ট, রড, ইট, সিরামিক, টাইলস, কাচ, রং, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, স্যানিটারি পণ্য, আসবাব ও পরিবহনসহ তিন শতাধিক সহযোগী শিল্প আবাসন খাতের সঙ্গে যুক্ত।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপিত ছয়টি প্রস্তাব হলো—দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় ভূমি জোনিং নীতিমালা প্রণয়ন, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে আবাসন কর্মসূচি গ্রহণ, মধ্যবিত্তদের জন্য এক অঙ্কের সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালু, নিবন্ধন ব্যয় ও কর কাঠামো যৌক্তিকীকরণ, জমির মালিকদের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ মূলধনী কর প্রত্যাহার এবং ভবনের নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা।

রিহ্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের সীমিত ভূমির সর্বোচ্চ ও পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে ২১০০ সাল পর্যন্ত সম্ভাব্য জনসংখ্যা, নগরায়ণ এবং আবাসনের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় ভূমি জোনিং নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। জমিকে কৃষি, বনাঞ্চল, জলাশয়, আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও সংরক্ষিত অঞ্চল হিসেবে বৈজ্ঞানিকভাবে শ্রেণিবিন্যাস করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি জমি ও নীতিগত সহায়তার সঙ্গে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও দক্ষতার সমন্বয়ে পিপিপিভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।

মধ্যবিত্ত পরিবারের আবাসনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহজ শর্তে এক অঙ্কের সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণের বিশেষ কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দেয় রিহ্যাব। পাশাপাশি দেশের জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধন ব্যয় কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণের অনুরোধ জানানো হয়।

রিহ্যাবের দাবি, নিবন্ধন ব্যয় ও করের হার যৌক্তিক হলে ক্রেতারা প্রকৃত লেনদেনমূল্য দেখাতে উৎসাহিত হবেন। এতে অপ্রদর্শিত অর্থের প্রবণতা কমার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়তে পারে।

জমির মালিকদের ওপর ফ্ল্যাট নির্মাণে আরোপিত ১৫ শতাংশ মূলধনী কর প্রত্যাহারের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির মতে, আর্থিক সুবিধা পাওয়ার আগেই করের দায় সৃষ্টি হওয়ায় জমির মালিকদের ওপর চাপ বাড়ছে এবং শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাটের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ ছাড়া ভবনের নকশা অনুমোদন এবং জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধনে দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানি কমাতে পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল করার আহ্বান জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। সরকার এ খাতের জন্য স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে, যাতে আবাসন উন্নয়ন পরিকল্পিত, টেকসই ও দুর্নীতিমুক্ত হয়।

তিনি ঢাকা-কেন্দ্রিক নগরায়ণ থেকে বেরিয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলকেও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার সময় কৃষিজমি রক্ষার কথাও বলেন।

সরকার সরাসরি আবাসন ব্যবসা পরিচালনা না করে পিপিপির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। রিহ্যাবের যৌক্তিক প্রস্তাবগুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন তিনি।

ট্যাগ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাংলা ভিউজ

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আবাসন খাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিহ্যাবের ৬ প্রস্তাব

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬

featured Image

দেশের আবাসন খাতের উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে ছয় দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।

বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করেন রিহ্যাব সভাপতি ড. আলী আফজালের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল।

বৈঠকে রিহ্যাব সভাপতি বলেন, সরকার স্বীকৃত আবাসন খাতের ট্রেডবডি হিসেবে সংগঠনটি ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন উন্নয়নে কাজ করছে। তার দাবি, আবাসন খাত ও সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোতে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে এবং দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে এ খাতের অবদান প্রায় ১৫ শতাংশ।

তিনি বলেন, সিমেন্ট, রড, ইট, সিরামিক, টাইলস, কাচ, রং, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, স্যানিটারি পণ্য, আসবাব ও পরিবহনসহ তিন শতাধিক সহযোগী শিল্প আবাসন খাতের সঙ্গে যুক্ত।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপিত ছয়টি প্রস্তাব হলো—দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় ভূমি জোনিং নীতিমালা প্রণয়ন, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে আবাসন কর্মসূচি গ্রহণ, মধ্যবিত্তদের জন্য এক অঙ্কের সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালু, নিবন্ধন ব্যয় ও কর কাঠামো যৌক্তিকীকরণ, জমির মালিকদের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ মূলধনী কর প্রত্যাহার এবং ভবনের নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা।

রিহ্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের সীমিত ভূমির সর্বোচ্চ ও পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে ২১০০ সাল পর্যন্ত সম্ভাব্য জনসংখ্যা, নগরায়ণ এবং আবাসনের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় ভূমি জোনিং নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। জমিকে কৃষি, বনাঞ্চল, জলাশয়, আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও সংরক্ষিত অঞ্চল হিসেবে বৈজ্ঞানিকভাবে শ্রেণিবিন্যাস করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি জমি ও নীতিগত সহায়তার সঙ্গে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও দক্ষতার সমন্বয়ে পিপিপিভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।

মধ্যবিত্ত পরিবারের আবাসনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহজ শর্তে এক অঙ্কের সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণের বিশেষ কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দেয় রিহ্যাব। পাশাপাশি দেশের জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধন ব্যয় কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণের অনুরোধ জানানো হয়।

রিহ্যাবের দাবি, নিবন্ধন ব্যয় ও করের হার যৌক্তিক হলে ক্রেতারা প্রকৃত লেনদেনমূল্য দেখাতে উৎসাহিত হবেন। এতে অপ্রদর্শিত অর্থের প্রবণতা কমার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়তে পারে।

জমির মালিকদের ওপর ফ্ল্যাট নির্মাণে আরোপিত ১৫ শতাংশ মূলধনী কর প্রত্যাহারের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির মতে, আর্থিক সুবিধা পাওয়ার আগেই করের দায় সৃষ্টি হওয়ায় জমির মালিকদের ওপর চাপ বাড়ছে এবং শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাটের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ ছাড়া ভবনের নকশা অনুমোদন এবং জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধনে দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানি কমাতে পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল করার আহ্বান জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। সরকার এ খাতের জন্য স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে, যাতে আবাসন উন্নয়ন পরিকল্পিত, টেকসই ও দুর্নীতিমুক্ত হয়।

তিনি ঢাকা-কেন্দ্রিক নগরায়ণ থেকে বেরিয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলকেও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার সময় কৃষিজমি রক্ষার কথাও বলেন।

সরকার সরাসরি আবাসন ব্যবসা পরিচালনা না করে পিপিপির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। রিহ্যাবের যৌক্তিক প্রস্তাবগুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন তিনি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ