দল থেকে বহিষ্কৃত কোনো সংসদ সদস্য তার আসন ধরে রাখতে পারবেন কি না—এ প্রশ্ন তুলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তার মতে, নৈতিক স্খলনের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্যের পদে বহাল থাকার সুযোগ নেই।
বুধবার (২২ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি এ মতামত দেন।
শিশির মনির লিখেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে রাজনৈতিক দল থেকে ‘পদত্যাগের’ কথা রয়েছে, আর সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য হয়েছেন ‘বহিষ্কৃত’। জামায়াত বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানাবে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ওই ব্যক্তি সংসদ সদস্য থাকতে পারবেন কি না। এরপর নিজের মতামত হিসেবে বলেন, তিনি থাকতে পারবেন না।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকা নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যে শিশির মনির এ মন্তব্য করলেন।
জামায়াতের দাবি, সাংগঠনিক তদন্তে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দলীয় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সিদ্ধান্তটি নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর কথাও বলেছে দলটি।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ওই দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হবে। তবে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি অনুচ্ছেদটিতে সরাসরি উল্লেখ নেই। এ কারণে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হবে কি না, তা নিয়ে আইনজ্ঞদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।
সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হবে কি না—এ নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে উল্লেখ রয়েছে।
ফলে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে গেলে সাংবিধানিক বিধান, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং প্রযোজ্য আইনি ব্যাখ্যা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।