ঢাকা    রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নিম্নমানের এআই ভিডিওর আয় সীমিত করছে ইউটিউব

নিম্নমানের এআই ভিডিওর আয় সীমিত করছে ইউটিউব
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে গণহারে তৈরি নিম্নমানের, একই ছাঁচের এবং পুনরাবৃত্তিমূলক ভিডিও থেকে আয় করার সুযোগ আরও সীমিত করছে ইউটিউব। প্ল্যাটফর্মটি জানিয়েছে, ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামের আওতায় আয় করতে হলে একটি চ্যানেলের কনটেন্ট অবশ্যই মৌলিক, স্বতন্ত্র এবং দর্শকের জন্য অর্থবহ হতে হবে।

ইউটিউবের নীতিমালা অনুযায়ী, শুধু এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করলেই কোনো চ্যানেল আয় করার অযোগ্য হয়ে যাবে না। তবে একই টেমপ্লেট, দৃশ্য, ভয়েস বা তথ্য সামান্য পরিবর্তন করে বারবার প্রকাশ করা ভিডিওকে অপ্রামাণিক বা গণহারে তৈরি কনটেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে ইউটিউব তাদের ‘পুনরাবৃত্তিমূলক কনটেন্ট’ নীতির নাম পরিবর্তন করে ‘অপ্রামাণিক কনটেন্ট’ নীতি রাখে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই পরিবর্তন নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা নয়। বরং দীর্ঘদিন ধরে আয়ের অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত গণহারে তৈরি ও পুনরাবৃত্তিমূলক কনটেন্টের বিষয়টি আরও পরিষ্কার করা হয়েছে।

নতুন ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, একটি চ্যানেলের ভিডিওগুলোর মধ্যে বিষয়বস্তুর যথেষ্ট পার্থক্য থাকতে হবে। দর্শকের কাছে যেন স্পষ্ট হয় যে প্রতিটি ভিডিওতে নতুন তথ্য, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, গল্প বা বিনোদনমূলক মূল্য রয়েছে।

শুধু ওয়েবসাইট বা সংবাদমাধ্যমের লেখা পড়ে শোনানো, একই ধরনের স্লাইডশো তৈরি করা কিংবা সামান্য পরিবর্তন করে বিপুলসংখ্যক ভিডিও প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের মনিটাইজেশন বাতিল বা স্থগিত হতে পারে।

তবে এআইয়ের সাহায্যে চিত্র, ভয়েস, স্ক্রিপ্ট বা সম্পাদনার কাজ করা যাবে। এ ধরনের কনটেন্টে নির্মাতার নিজস্ব বিশ্লেষণ, সম্পাদনা, বক্তব্য, গল্প বলার ধরন এবং সৃজনশীল অবদান থাকলে তা থেকে আয় করার সুযোগ থাকবে।

ইউটিউব আরও জানিয়েছে, বাস্তবসম্মতভাবে পরিবর্তন করা বা কৃত্রিমভাবে তৈরি ভিডিও প্রকাশের সময় নির্মাতাকে এআই ব্যবহারের বিষয়টি জানাতে হবে। বিশেষ করে কোনো বাস্তব ব্যক্তি, ঘটনা বা স্থানকে এমনভাবে দেখানো হলে, যা দর্শককে বিভ্রান্ত করতে পারে, তখন ভিডিও আপলোডের সময় উপযুক্ত লেবেল ব্যবহার করতে হবে।

এআই ব্যবহারের ঘোষণা দিলেই কোনো ভিডিওর আয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হবে না। বরং কনটেন্টটি ইউটিউবের কমিউনিটি নীতিমালা, বিজ্ঞাপনবান্ধব নীতি এবং মনিটাইজেশনের অন্যান্য শর্ত পূরণ করছে কি না, তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইউটিউবের মতে, এআই নির্মাতাদের সৃজনশীলতা ও গল্প বলার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তবে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করে দ্রুত ও ব্যাপক হারে মূল্যহীন ভিডিও তৈরি করলে সেগুলো পার্টনার প্রোগ্রামের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে না।

কনটেন্ট নির্মাতাদের প্রতিটি ভিডিওতে নিজস্ব চিন্তা, গবেষণা, ব্যাখ্যা ও সৃজনশীল সম্পাদনা যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। একই ফরম্যাট ব্যবহার করা গেলেও ভিডিওগুলোর মূল বক্তব্য এবং দর্শককে দেওয়া মূল্য আলাদা হতে হবে।

ট্যাগ : ইউটিউব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এআই ভিডিও

বাংলা ভিউজ

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নিম্নমানের এআই ভিডিওর আয় সীমিত করছে ইউটিউব

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬

featured Image

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে গণহারে তৈরি নিম্নমানের, একই ছাঁচের এবং পুনরাবৃত্তিমূলক ভিডিও থেকে আয় করার সুযোগ আরও সীমিত করছে ইউটিউব। প্ল্যাটফর্মটি জানিয়েছে, ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামের আওতায় আয় করতে হলে একটি চ্যানেলের কনটেন্ট অবশ্যই মৌলিক, স্বতন্ত্র এবং দর্শকের জন্য অর্থবহ হতে হবে।

ইউটিউবের নীতিমালা অনুযায়ী, শুধু এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করলেই কোনো চ্যানেল আয় করার অযোগ্য হয়ে যাবে না। তবে একই টেমপ্লেট, দৃশ্য, ভয়েস বা তথ্য সামান্য পরিবর্তন করে বারবার প্রকাশ করা ভিডিওকে অপ্রামাণিক বা গণহারে তৈরি কনটেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে ইউটিউব তাদের ‘পুনরাবৃত্তিমূলক কনটেন্ট’ নীতির নাম পরিবর্তন করে ‘অপ্রামাণিক কনটেন্ট’ নীতি রাখে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই পরিবর্তন নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা নয়। বরং দীর্ঘদিন ধরে আয়ের অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত গণহারে তৈরি ও পুনরাবৃত্তিমূলক কনটেন্টের বিষয়টি আরও পরিষ্কার করা হয়েছে।

নতুন ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, একটি চ্যানেলের ভিডিওগুলোর মধ্যে বিষয়বস্তুর যথেষ্ট পার্থক্য থাকতে হবে। দর্শকের কাছে যেন স্পষ্ট হয় যে প্রতিটি ভিডিওতে নতুন তথ্য, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, গল্প বা বিনোদনমূলক মূল্য রয়েছে।

শুধু ওয়েবসাইট বা সংবাদমাধ্যমের লেখা পড়ে শোনানো, একই ধরনের স্লাইডশো তৈরি করা কিংবা সামান্য পরিবর্তন করে বিপুলসংখ্যক ভিডিও প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের মনিটাইজেশন বাতিল বা স্থগিত হতে পারে।

তবে এআইয়ের সাহায্যে চিত্র, ভয়েস, স্ক্রিপ্ট বা সম্পাদনার কাজ করা যাবে। এ ধরনের কনটেন্টে নির্মাতার নিজস্ব বিশ্লেষণ, সম্পাদনা, বক্তব্য, গল্প বলার ধরন এবং সৃজনশীল অবদান থাকলে তা থেকে আয় করার সুযোগ থাকবে।

ইউটিউব আরও জানিয়েছে, বাস্তবসম্মতভাবে পরিবর্তন করা বা কৃত্রিমভাবে তৈরি ভিডিও প্রকাশের সময় নির্মাতাকে এআই ব্যবহারের বিষয়টি জানাতে হবে। বিশেষ করে কোনো বাস্তব ব্যক্তি, ঘটনা বা স্থানকে এমনভাবে দেখানো হলে, যা দর্শককে বিভ্রান্ত করতে পারে, তখন ভিডিও আপলোডের সময় উপযুক্ত লেবেল ব্যবহার করতে হবে।

এআই ব্যবহারের ঘোষণা দিলেই কোনো ভিডিওর আয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হবে না। বরং কনটেন্টটি ইউটিউবের কমিউনিটি নীতিমালা, বিজ্ঞাপনবান্ধব নীতি এবং মনিটাইজেশনের অন্যান্য শর্ত পূরণ করছে কি না, তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইউটিউবের মতে, এআই নির্মাতাদের সৃজনশীলতা ও গল্প বলার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তবে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করে দ্রুত ও ব্যাপক হারে মূল্যহীন ভিডিও তৈরি করলে সেগুলো পার্টনার প্রোগ্রামের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে না।

কনটেন্ট নির্মাতাদের প্রতিটি ভিডিওতে নিজস্ব চিন্তা, গবেষণা, ব্যাখ্যা ও সৃজনশীল সম্পাদনা যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। একই ফরম্যাট ব্যবহার করা গেলেও ভিডিওগুলোর মূল বক্তব্য এবং দর্শককে দেওয়া মূল্য আলাদা হতে হবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ