ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর দেশটির রাজধানী বুয়েনস আইরেসে সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ। ঘটনায় অন্তত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) নিউ জার্সির নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে ১–০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। ১০৬ মিনিটে স্পেনের হয়ে জয়সূচক গোল করেন ফেরান তোরেস।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আর্জেন্টিনা দলের প্রতি সমর্থন জানাতে হাজারো মানুষ বুয়েনস আইরেসের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ওবেলিস্ক স্মৃতিস্তম্ভ এলাকায় জড়ো হন। পরাজয়ের হতাশা থাকলেও শুরুতে তাঁরা ফাইনালে পৌঁছানো দলটির সাফল্য উদ্যাপন করছিলেন।
একপর্যায়ে জমায়েতে থাকা একটি অংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজন সমর্থক পুলিশের দিকে কাচের বোতল, পাথর ও অন্যান্য বস্তু ছুড়ে মারেন। জবাবে দাঙ্গা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। পরে জলকামানের গাড়ি দিয়ে আশপাশের সড়ক থেকে লোকজনকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে পুলিশ ও সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। একটি ভিডিওতে একজন দাঙ্গা পুলিশকে এক সমর্থকের মাথায় লাথি মারতে দেখা যায়। ঘটনাটি নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন জানিয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। কয়েকজন আহত ও অসুস্থ মানুষকে ঘটনাস্থলে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে আহত ব্যক্তিদের মোট সংখ্যা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ফাইনালের শেষ বাঁশির পর মাঠেও দুই দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি অবশ্য দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে স্পেনের খেলোয়াড়েরা শিরোপা উদ্যাপন করার সময় আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় তাঁদের দিকে পিঠ ফিরিয়ে সমর্থকদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা হলেও অনেকের দাবি, তাঁরা স্পেনকে অসম্মান করতে নয়, নিজেদের সমর্থকদের অভিবাদন জানাতে এভাবে দাঁড়িয়েছিলেন।
ফাইনাল দেখতে নিউ জার্সিতে যাননি আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, কুসংস্কার বা প্রচলিত ফুটবলীয় বিশ্বাসের কারণে বাড়িতে বসেই ম্যাচ দেখবেন। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার আগের ম্যাচগুলোও তিনি একই জায়গা থেকে দেখেছিলেন।
পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জাতীয় দলের অর্জন উদ্যাপনের প্রসঙ্গ তোলেন মিলে। খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ যে দিনটি উদ্যাপনের জন্য বেছে নেবেন, সেদিন জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি। তবে ছুটির তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
ফাইনালে হারের পরও খেলোয়াড়দের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি বলেন, পরাজয়ে তাঁরা দুঃখিত হলেও খেলোয়াড়দের প্রতি তিনি চিরকৃতজ্ঞ। দল শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে এবং নিজেদের সর্বস্ব দিয়েছে।
জয়ের মতো পরাজয়ের সময়ও মর্যাদা বজায় রাখতে হবে উল্লেখ করে স্কালোনি বলেন, বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছাতে তাঁর খেলোয়াড়েরা যে পরিশ্রম করেছেন, সেটি ভুলে গেলে চলবে না।














মন্তব্যসমূহ