বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ। বার্তা আদান-প্রদান, ছবি ও ফাইল শেয়ার থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য বিনিময়ের জন্য অ্যাপটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এর জনপ্রিয়তা এখন সাইবার অপরাধীদের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মেসেজিং অ্যাপকে কেন্দ্র করে হ্যাকিং ও প্রতারণার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ভুয়া লিংক, ফিশিং বার্তা, ক্ষতিকর ফাইল এবং সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কৌশলের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির চেষ্টা করছে হ্যাকাররা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হোয়াটসঅ্যাপে শক্তিশালী ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ থাকলেও ব্যবহারকারীর অসতর্কতা থাকলে অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি নিরাপদ রাখা সম্ভব নয়। তাই সাইবার হামলা থেকে সুরক্ষিত থাকতে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
১. টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করুন
হোয়াটসঅ্যাপের টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন ফিচার অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্তর যোগ করে। এতে ৬ ডিজিটের একটি পিন সেট করতে হয়, যা ছাড়া নতুন ডিভাইসে লগইন করা সম্ভব নয়। ফলে সিম সোয়াপিং বা কোড চুরি হলেও অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত থাকে।
২. সন্দেহজনক লিংক ও বার্তা এড়িয়ে চলুন
হ্যাকাররা ভুয়া অফার, ভেরিফিকেশন বা জরুরি নোটিশের নামে ফিশিং লিংক পাঠায়। এসব লিংকে ক্লিক করলে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি বা ডিভাইসে ম্যালওয়্যার ইনস্টল হতে পারে।
৩. ভেরিফিকেশন কোড কখনোই শেয়ার করবেন না
হোয়াটসঅ্যাপের ৬ ডিজিটের কোড কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না। অনেক সময় হ্যাকাররা পরিচিত সেজে কোড চাইতে পারে, যা দিলেই অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারাতে হয়।
৪. লিংকড ডিভাইস নিয়মিত পরীক্ষা করুন
হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব বা মাল্টি-ডিভাইস ফিচারে অন্য কেউ লগইন করে থাকলে সেটি আপনার অজান্তে বার্তা দেখতে পারে। তাই ‘লিংকড ডিভাইস’ তালিকা নিয়মিত চেক করে অচেনা ডিভাইস লগআউট করা জরুরি।
৫. নিয়মিত অ্যাপ ও সিস্টেম আপডেট করুন
পুরনো ভার্সনের নিরাপত্তা দুর্বলতা ব্যবহার করে হ্যাকাররা আক্রমণ চালায়। তাই হোয়াটসঅ্যাপ ও মোবাইল সফটওয়্যার সবসময় আপডেট রাখা প্রয়োজন।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার চেয়ে বড় ঝুঁকি ব্যবহারকারীর অসচেতনতা। তাই সচেতন থাকলে এবং নিরাপত্তা ফিচারগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করলে সাইবার হামলার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।