ব্যয়বহুল বাণিজ্যিক সফটওয়্যার ও লাইসেন্সের পরিবর্তে সম্পূর্ণ ওপেন-সোর্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৩২-বিট প্রসেসর ডিজাইন করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী।‘প্রগতি ভি১’ নামের প্রসেসরটি তৈরি করেছেন বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী খালিদ হোসাইন ও শেখ তারিফুল ইসলাম। অধ্যাপক এ বি এম হারুন-উর-রশিদের নেতৃত্বে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। এতে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেড।প্রসেসরটি তৈরিতে ওপেন-স্ট্যান্ডার্ড RISC-V ইনস্ট্রাকশন সেট আর্কিটেকচার এবং ওপেন-সোর্স ইলেকট্রনিক ডিজাইন অটোমেশন বা EDA টুল ব্যবহার করা হয়েছে। চিপটির নকশায় জার্মানির IHP প্রতিষ্ঠানের SG13G2 ১৩০ ন্যানোমিটার ওপেন-সোর্স প্রসেস ডিজাইন কিট ব্যবহার করা হয়।কম্পিউটারে নকশা সম্পন্ন হওয়ার পর জার্মানির IHP–Leibniz Institute for High Performance Microelectronics-এর ওপেন-সোর্স ফ্যাব্রিকেশন কর্মসূচির আওতায় বিনা মূল্যে চিপটির বাস্তব সিলিকন সংস্করণ তৈরি করা হয়। তৈরি চিপটি ইতোমধ্যে বুয়েটের হাতে পৌঁছেছে।[BANGVIEWS-POST:3114]সিস্টেম-অন-চিপ বা SoC হিসেবে তৈরি ‘প্রগতি ভি১’ স্মার্ট এয়ার কন্ডিশনার, স্মার্ট রেফ্রিজারেটর এবং বিভিন্ন ইন্টারনেট অব থিংস ও এমবেডেড যন্ত্রে ব্যবহারের লক্ষ্য নিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওপেন-সোর্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে নকশা থেকে বাস্তব সিলিকন চিপ তৈরির এই অর্জন বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর গবেষণা ও দক্ষ জনবল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ব্যয়বহুল বিদেশি সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরতা ছাড়াই দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চিপ ডিজাইন শেখা ও গবেষণার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।প্রগতি ভি১-এর সফল টেপ-আউট এবং ফ্যাব্রিকেশন বাংলাদেশের নিজস্ব সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সক্ষমতা গড়ে তোলার পথে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।