ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

হরমুজ নিরাপত্তায় অর্থ দিতে রাজি উপসাগরীয় দেশ?

হরমুজ নিরাপত্তায় অর্থ দিতে রাজি উপসাগরীয় দেশ?
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের জানিয়েছে, এই জলপথ দিয়ে চলাচলের জন্য কোনো ধরনের ফি বা টোল দিতে তাদের আপত্তি নেই। তবে হরমুজের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বা একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তারা মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একাধিক মার্কিন ও আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে অর্থপ্রদানের বিষয়টি বড় সমস্যা নয়। তাদের মূল উদ্বেগ হলো, ইরান যেন এমন অবস্থানে না পৌঁছায়, যেখানে তারা ইচ্ছামতো কোন জাহাজ হরমুজ দিয়ে চলাচল করবে তা নির্ধারণ করতে পারে।

এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো চায় না ইরান এমন একটি ‘নিয়ন্ত্রণ সুইচ’ হাতে পাক, যা দিয়ে পুরো আন্তর্জাতিক নৌপথকে প্রভাবিত করা সম্ভব।

এই অবস্থানই সম্ভবত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ নিরাপত্তা নিয়ে অর্থনৈতিক সুবিধা চাওয়ার প্রস্তাবের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এর আগে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিনিময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছ থেকে ২০ শতাংশ ফি নেওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে পরে তিনি সরাসরি ফি নেওয়ার ধারণা থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রস্তাব দেন।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পুরো বিশ্বের জন্য হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, এমনকি চীনের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্যও। তাই এর বিনিময়ে কোনো না কোনোভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এর আগে জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক জলপথে কোনো দেশ সরাসরি টোল আরোপ করতে পারে না। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশও হরমুজে ইরানের কোনো ধরনের ট্রানজিট ফি আরোপের উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর অবস্থান মূলত ইরানের প্রভাব সীমিত রাখার দিকে। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্ভিস ফি চালুর উদ্যোগ ওমানের অবস্থানের কারণে বাধার মুখে পড়েছে।

হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের প্রস্থ প্রায় ২১ নটিক্যাল মাইল। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, উপকূলবর্তী দেশগুলো তাদের নির্ধারিত আঞ্চলিক জলসীমার ওপর অধিকার রাখে। তবে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইরান ও ওমানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি শুধু জ্বালানি পরিবহনের পথ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে বড় কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রতিযোগিতার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

ট্যাগ : ইরান ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য হরমুজ প্রণালি ইরান যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ মার্কো রুবিও ওমান

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


হরমুজ নিরাপত্তায় অর্থ দিতে রাজি উপসাগরীয় দেশ?

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের জানিয়েছে, এই জলপথ দিয়ে চলাচলের জন্য কোনো ধরনের ফি বা টোল দিতে তাদের আপত্তি নেই। তবে হরমুজের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বা একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তারা মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একাধিক মার্কিন ও আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে অর্থপ্রদানের বিষয়টি বড় সমস্যা নয়। তাদের মূল উদ্বেগ হলো, ইরান যেন এমন অবস্থানে না পৌঁছায়, যেখানে তারা ইচ্ছামতো কোন জাহাজ হরমুজ দিয়ে চলাচল করবে তা নির্ধারণ করতে পারে।

এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো চায় না ইরান এমন একটি ‘নিয়ন্ত্রণ সুইচ’ হাতে পাক, যা দিয়ে পুরো আন্তর্জাতিক নৌপথকে প্রভাবিত করা সম্ভব।

এই অবস্থানই সম্ভবত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ নিরাপত্তা নিয়ে অর্থনৈতিক সুবিধা চাওয়ার প্রস্তাবের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এর আগে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিনিময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছ থেকে ২০ শতাংশ ফি নেওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে পরে তিনি সরাসরি ফি নেওয়ার ধারণা থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রস্তাব দেন।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পুরো বিশ্বের জন্য হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, এমনকি চীনের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্যও। তাই এর বিনিময়ে কোনো না কোনোভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এর আগে জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক জলপথে কোনো দেশ সরাসরি টোল আরোপ করতে পারে না। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশও হরমুজে ইরানের কোনো ধরনের ট্রানজিট ফি আরোপের উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর অবস্থান মূলত ইরানের প্রভাব সীমিত রাখার দিকে। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্ভিস ফি চালুর উদ্যোগ ওমানের অবস্থানের কারণে বাধার মুখে পড়েছে।

হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের প্রস্থ প্রায় ২১ নটিক্যাল মাইল। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, উপকূলবর্তী দেশগুলো তাদের নির্ধারিত আঞ্চলিক জলসীমার ওপর অধিকার রাখে। তবে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইরান ও ওমানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি শুধু জ্বালানি পরিবহনের পথ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে বড় কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রতিযোগিতার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ