২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে দেশের ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর পক্ষে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় ৪৪ জেলার ৫৫ উপজেলায় তিন ধাপে পাইলট প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে ৬৯ হাজার ৩৮৭টি নারী-প্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ভাতা দেওয়া হয়েছে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই দেশব্যাপী সমন্বিত পরিবার শুমারি পরিচালনা করা হবে। এতে প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
শুমারির তথ্যের ভিত্তিতে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে আধুনিক তথ্যভান্ডারের আওতায় এনে আগামী চার বছরের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। মাঠপর্যায়ের জরিপ ও প্রক্সি মিনস টেস্ট স্কোরের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্বাচনের কথা জানিয়েছে সরকার।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। এ লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নির্দেশিকা, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’-এর খসড়াও গেজেট প্রকাশের জন্য মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা-১৮ আসনে পাইলট প্রকল্পের আওতায় কড়াইল, সাততলা, ভাষানটেক, অলিমিয়ার টেক ও বাগানবাড়ী বস্তির কিছু এলাকায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরিবার শুমারি শেষ হলে উত্তরা ও আশপাশের এলাকাতেও চলতি অর্থবছরে ব্যাপকভাবে কার্ড বিতরণ করা হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি ভাতা, খাদ্য সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।
মন্তব্যসমূহ