বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ১টায় টেক্সাসের আর্লিংটনের ডালাস স্টেডিয়ামে মাঠে নামবে দুই দল।
টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচে পিছিয়ে না পড়া দুই দলের লড়াইকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি উত্তেজনা। আক্রমণনির্ভর ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেনের বল দখল ও নিয়ন্ত্রিত ফুটবলের দ্বৈরথকে অনেকে ‘ফাইনালের আগেই ফাইনাল’ হিসেবে দেখছেন।
ফ্রান্সের আক্রমণভাগের নেতৃত্বে রয়েছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। আট গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকা এই তারকার সঙ্গে আক্রমণে রয়েছেন মাইকেল ওলিসে, ওসমানে দেম্বেলে, ব্র্যাডলি বারকোলা ও ডিজিরে দুয়ে। ফ্রান্স এবারের আসরে প্রতিপক্ষের জালে ১৪ গোল দেওয়ার বিপরীতে হজম করেছে মাত্র দুটি।
কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে দিদিয়ের দেশমের দল। টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে জায়গা করে নিয়ে ব্রাজিল ও জার্মানির বিরল কীর্তিতে ভাগ বসানোর সুযোগ রয়েছে ফরাসিদের সামনে।
অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র করলেও পরের ম্যাচগুলোতে ছন্দ ফিরে পেয়েছে স্পেন। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। লামিন ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, পেদ্রি ও মিকেল মেরিনোদের নিয়ে গড়া দলটি বল দখল ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী।
সাম্প্রতিক মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছে স্পেন। ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারানোর পর ২০২৫ সালের উয়েফা নেশন্স লিগের সেমিফাইনালেও ৫-৪ গোলে জয় পেয়েছিল তারা।
তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দলের আগের একমাত্র সাক্ষাতে জয় পেয়েছিল ফ্রান্স। ২০০৬ সালের শেষ ষোলোতে পিছিয়ে পড়েও স্পেনকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল ফরাসিরা। এবার দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল।
ফ্রান্সের দ্রুতগতির আক্রমণ সামলানো স্পেনের জন্য বড় পরীক্ষা হবে। অন্যদিকে, স্পেনের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে প্রতি-আক্রমণে সুযোগ তৈরি করাই হবে ফ্রান্সের প্রধান কৌশল। বিজয়ী দল ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে ইংল্যান্ড অথবা আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে।
মন্তব্যসমূহ