ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বন্যায় ৫৪ মৃত্যুর বেশিরভাগই পাহাড় ধসে: দুর্যোগমন্ত্রী

বন্যায় ৫৪ মৃত্যুর বেশিরভাগই পাহাড় ধসে: দুর্যোগমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে নিহত ৫৪ জনের অধিকাংশই পাহাড় ধসের কারণে প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

দুর্যোগমন্ত্রী বলেন, “ইতোমধ্যে আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে জরুরি ত্রাণ কার্য পরিচালনার জন্য ১ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা আমরা তাৎক্ষণিক বরাদ্দ দিয়েছি। ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছে এবং এর বাইরে প্রধানমন্ত্রী তার ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে প্রত্যেক জেলায় ২০ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়েছেন।”

তিনি জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের মধ্যে রান্না করা ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। উদ্ধার কার্যক্রমে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও কোস্টগার্ডকে নিয়োজিত করা হয়েছে।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে আমাদের তৈরি খাবার দেওয়া হচ্ছে, শুকনো খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। উদ্ধার কাজের জন্য সেনাবাহিনী, বিজিবি ও কোস্টগার্ডকে আমরা নিয়োজিত করেছি। তাদের উদ্ধার কাজ পরিচালনা করার জন্য আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে স্পিডবোট এবং রাবার বোট আমরা পাঠিয়েছি।”

আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত মেরামতের বিষয়ে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, “আজকে যে গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের জন্য সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। যে-সব রাস্তা-ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, অল্প সময়ের মধ্যে তারা সেটা মেরামত করবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন যে সমস্ত সড়ক, তারা সেটা মেরামত করবে। আমরা আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে যদি কাঁচা সড়ক থেকে থাকে সেগুলোকে আমরা কাবিখা-কাবিটা দিয়ে মেরামত করব।”

বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু থাকবে বলেও জানান দুর্যোগমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভাগীয় কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “বন্যার ঘটনায় সরকার সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে একাধিকবার বৈঠক করেছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে, বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে এবং জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে। ওনার নির্দেশনায় আমি আগামীকাল থেকে ব্যাপকভাবে ওই এলাকাগুলো সফর করব। আজকে আমি চট্টগ্রাম যাচ্ছি।”

সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ : বন্যা পাহাড় ধস দুর্যোগমন্ত্রী

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


বন্যায় ৫৪ মৃত্যুর বেশিরভাগই পাহাড় ধসে: দুর্যোগমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে নিহত ৫৪ জনের অধিকাংশই পাহাড় ধসের কারণে প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

দুর্যোগমন্ত্রী বলেন, “ইতোমধ্যে আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে জরুরি ত্রাণ কার্য পরিচালনার জন্য ১ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা আমরা তাৎক্ষণিক বরাদ্দ দিয়েছি। ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছে এবং এর বাইরে প্রধানমন্ত্রী তার ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে প্রত্যেক জেলায় ২০ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়েছেন।”

তিনি জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের মধ্যে রান্না করা ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। উদ্ধার কার্যক্রমে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও কোস্টগার্ডকে নিয়োজিত করা হয়েছে।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে আমাদের তৈরি খাবার দেওয়া হচ্ছে, শুকনো খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। উদ্ধার কাজের জন্য সেনাবাহিনী, বিজিবি ও কোস্টগার্ডকে আমরা নিয়োজিত করেছি। তাদের উদ্ধার কাজ পরিচালনা করার জন্য আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে স্পিডবোট এবং রাবার বোট আমরা পাঠিয়েছি।”

আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত মেরামতের বিষয়ে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, “আজকে যে গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের জন্য সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। যে-সব রাস্তা-ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, অল্প সময়ের মধ্যে তারা সেটা মেরামত করবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন যে সমস্ত সড়ক, তারা সেটা মেরামত করবে। আমরা আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে যদি কাঁচা সড়ক থেকে থাকে সেগুলোকে আমরা কাবিখা-কাবিটা দিয়ে মেরামত করব।”

বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু থাকবে বলেও জানান দুর্যোগমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভাগীয় কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “বন্যার ঘটনায় সরকার সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে একাধিকবার বৈঠক করেছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে, বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে এবং জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে। ওনার নির্দেশনায় আমি আগামীকাল থেকে ব্যাপকভাবে ওই এলাকাগুলো সফর করব। আজকে আমি চট্টগ্রাম যাচ্ছি।”

সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ