২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের হতাশাজনক বিদায়ের পর জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে রসিকতার ছলে সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা।
সাও পাওলোর মাউয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি পরিদর্শনের সময় লুলা বলেন, বিশ্বকাপে বড় একটি দল নিয়ে গেলেও জাতীয় দলের নির্ধারিত বিমানে মাত্র একজন খেলোয়াড় দেশে ফিরেছেন।
ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট বলেন, এত খেলোয়াড় নিয়ে বিশ্বকাপে যাওয়া দলটির ফেরার বিমানে প্রায় কেউই ছিল না। বিষয়টিকে তিনি জাতীয় দলের জন্য বিব্রতকর হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় ব্রাজিল। দেশটির জন্য এটি ছিল ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে সবচেয়ে আগের বিদায়।
দলটির বিদায়ের পর ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের ভাড়া করা বিমানে রিও ডি জেনেইরোতে ফেরেন শুধু ফ্ল্যামেঙ্গোর ডিফেন্ডার দানিলো। তার সঙ্গে দলের কয়েকজন কর্মকর্তা, চিকিৎসা ও নিরাপত্তাকর্মী এবং অনুশীলনের গোলরক্ষক লিও নানেত্তি ছিলেন।
স্কোয়াডের বাকি খেলোয়াড়েরা ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র অথবা অন্য গন্তব্যে চলে যান। কোচ কার্লো আনচেলত্তিও নিজের বাড়িতে ফেরেন। খেলোয়াড়দের এই বিচ্ছিন্নভাবে ফিরে যাওয়ার বিষয়টিকে অপেশাদার আচরণ হিসেবে দেখেছেন লুলা।
তিনি আরও বলেন, ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিততে পারলে দেশে ভিন্ন পরিবেশ তৈরি হতো এবং সবাই আনন্দ-উৎসবে অংশ নিতেন।
একই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের তৈরি একটি ফুটবল খেলার রোবট দেখেও রসিকতা করেন ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট। কোচ আনচেলত্তিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে রোবটটিকে জাতীয় দলে নেওয়া যেতে পারে এবং সেটি হয়তো ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতাতে পারবে।
লুলার এমন মন্তব্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অতিথিদের মধ্যে হাসির সৃষ্টি হয়। তবে তার কথায় বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স এবং দলটির বিশ্বকাপ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে হতাশাও ফুটে উঠেছে।
মন্তব্যসমূহ