কক্সবাজারের টেকনাফে প্রায় ২০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়া একটি বন্য মা হাতির মৃত্যু হয়েছে। বন বিভাগ, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) এবং প্রাণিসম্পদ বিভাগের সমন্বিত চিকিৎসা প্রচেষ্টা চালানো হলেও শেষ পর্যন্ত হাতিটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
রোববার সকাল ১০টার দিকে হাতিটির মৃত্যু হয় বলে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগ নিশ্চিত করেছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পাহাড় থেকে পড়ে যাওয়ার ফলে হাতিটির মেরুদণ্ড ও পেছনের পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন অংশে অভ্যন্তরীণ ক্ষত সৃষ্টি হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে। নিবিড় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত সে মারা যায়।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার বিকেলে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যাংপাড়া এলাকার একটি পাহাড়ে। বন বিভাগের প্রাথমিক ধারণা, টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় খাদ্যের সন্ধানে থাকা অবস্থায় হাতিটির পা পিছলে যায় এবং প্রায় ২০০ ফুট নিচে পড়ে যায়। এতে সে গুরুতর আহত হয়ে আর দাঁড়াতে পারেনি।
স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বন বিভাগের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে টেকনাফ উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসক এবং বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে হাতিটির চিকিৎসা শুরু করা হয়। এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) দীর্ঘ সময় ধরে হাতিটিকে সুস্থ করার চেষ্টা চালায়।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মৃত হাতিটির আনুমানিক বয়স ছিল ৪০ বছর। গুরুতর আঘাতের কারণে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে হাতিটির আহত হওয়ার খবর জানার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। তবে সব ধরনের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও রোববার সকালে বন্য প্রাণীটির মৃত্যু হয়।
মন্তব্যসমূহ