চার দশক পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দুই দলের এই লড়াই ঘিরে ইতোমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। ১৯৮৬ সালের ঐতিহাসিক ম্যাচের স্মৃতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে এই মহারণকে ঘিরে।
কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে অতিরিক্ত সময়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে শেষ চারে উঠে আসে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ফলে বিশ্বকাপের অন্যতম ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার আরেকটি অধ্যায় দেখতে অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ লড়াই শুধুই ফুটবলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। বিশেষ করে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস যুদ্ধের পর দুই দেশের মধ্যকার ম্যাচগুলো বাড়তি গুরুত্ব পেয়ে এসেছে।
১৯৮৬ সালের ২২ জুন মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনা দুটি স্মরণীয় গোল করেন। প্রথমটি পরে ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে পরিচিতি পায়, কারণ বলটি হাতে লেগে জালে গেলেও সেটি গোল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। এরপর কয়েক মিনিটের ব্যবধানে মাঝমাঠ থেকে একক প্রচেষ্টায় করা তার আরেকটি গোল পরবর্তীতে ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলের অধীনে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে। শেষ ষোলোতে মেক্সিকো এবং কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে হারানোর পথে দলের অন্যতম নায়ক ছিলেন জুড বেলিংহ্যাম, যিনি দুই ম্যাচেই জোড়া গোল করেন।
অন্যদিকে লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনাও কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে। নকআউট পর্বে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর শেষ ষোলো ও কোয়ার্টার ফাইনাল উতরে সেমিফাইনালে ওঠে আলবিসেলেস্তেরা। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেসের গোল দলকে জয় এনে দেয়।
আগামী ১৫ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই সেমিফাইনাল। ইতিহাস, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বিশ্বকাপের গৌরব—সব মিলিয়ে ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে।
মন্তব্যসমূহ