হ্যারি কেইন ও কিলিয়ান এমবাপের মধ্যে ব্যালন ডি’অর জয়ের লড়াই শেষ হয়েছে মাত্র ২৮ পয়েন্টের ব্যবধানে। ২০২৬ সালের পুরুষদের ব্যালন ডি’অরে ১ হাজার ৫৫ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষস্থান অর্জন করেছেন ইংল্যান্ডের এই স্ট্রাইকার। অন্যদিকে ১ হাজার ২৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে।
ফরাসি সাময়িকী ‘লে’কিপ’ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এবারের ব্যালন ডি’অরের ভোটের পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশ করে। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, সাত দশকের ইতিহাসে দুই শীর্ষ খেলোয়াড়ের পয়েন্টের এই ব্যবধান চতুর্থ সর্বনিম্ন।
এই পুরস্কার জয়ের মধ্য দিয়ে ২৫ বছর পর ইংল্যান্ডের কোনো ফুটবলার ব্যালন ডি’অর পেলেন। এর আগে ২০০১ সালে পুরস্কারটি জিতেছিলেন মাইকেল ওয়েন। পাশাপাশি বায়ার্ন মিউনিখের কোনো খেলোয়াড়ের হাতে ৪৫ বছর পর উঠল এই সম্মাননা।
কেইনের আগে ১৯৮১ সালে বায়ার্নের হয়ে ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন কার্ল-হাইঞ্জ রুমেনিগে। এবারের প্রতিযোগিতায় কেইনের সঙ্গে এমবাপের ব্যবধানও ছিল বেশ কম। ২০১৯ সালে লিওনেল মেসি ভার্জিল ফন ডাইককে মাত্র ৭ পয়েন্টে হারিয়ে পুরস্কার জিতেছিলেন।
তবে ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে সবচেয়ে কম ব্যবধানে জয়ের নজির আরও পুরোনো। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপজয়ী দলের তারকা ববি চার্লটন মাত্র ১ পয়েন্টের ব্যবধানে পর্তুগালের এউসেবিওকে পেছনে ফেলেছিলেন। ১৯৯৬ সালেও একই ব্যবধানে ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিওকে হারিয়ে পুরস্কার জেতেন জার্মানির ম্যাথিয়াস সামার।
২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে কেইনের গোলসংখ্যা ছিল ৭৩। ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলদাতার পাশাপাশি ২০২৬ বিশ্বকাপেও ছয় গোল করে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হন তিনি। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এমবাপে করেন ৪২ গোল। বিশ্বকাপে ১০ গোল করে টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের করে নেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২২।
ভোটের ফলাফলে তৃতীয় হয়েছেন স্পেন ও বার্সেলোনার লামিনে ইয়ামাল। তাঁর ঝুলিতে জমা হয়েছে ৮৮১ পয়েন্ট। এমবাপের চেয়ে ১৪৬ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা ইয়ামাল প্রথম পছন্দের ভোট পেয়েছেন ১৩টি। ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার বার্সেলোনার লা লিগা শিরোপা জয়ের পাশাপাশি স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পথেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
চতুর্থ স্থানে থাকা রদ্রি পেয়েছেন ৭২৬ পয়েন্ট এবং প্রথম পছন্দের ভোট ১০টি। তালিকায় পঞ্চম হয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, তাঁর পয়েন্ট ৬১২।
ব্যালন ডি’অরের ভোট দেন ১০০ জন আন্তর্জাতিক সাংবাদিকের সমন্বয়ে গঠিত জুরি বোর্ড। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি জুরি সদস্যের প্রথম পছন্দের খেলোয়াড় পান ১৫ পয়েন্ট। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পছন্দের জন্য বরাদ্দ যথাক্রমে ১২ ও ১০ পয়েন্ট। এরপর চতুর্থ থেকে দশম স্থান পর্যন্ত খেলোয়াড়েরা পান পর্যায়ক্রমে ৮, ৭, ৫, ৪, ৩, ২ ও ১ পয়েন্ট।
পুরুষদের ব্যালন ডি’অরে শীর্ষ ১০-এর পয়েন্ট:
১. হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখ) — ১ হাজার ৫৫ পয়েন্ট
২. কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স ও রিয়াল মাদ্রিদ) — ১ হাজার ২৭ পয়েন্ট
৩. লামিনে ইয়ামাল (স্পেন ও বার্সেলোনা) — ৮৮১ পয়েন্ট
৪. রদ্রি (স্পেন, ম্যানচেস্টার সিটি ও বর্তমানে বার্সেলোনা) — ৭২৬ পয়েন্ট
৫. লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা ও ইন্টার মায়ামি) — ৬১২ পয়েন্ট
৬. খিচা কাভারৎস্খেলিয়া (জর্জিয়া ও পিএসজি) — ৫৪১ পয়েন্ট
৭. উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স ও পিএসজি) — ৪১৮ পয়েন্ট
৮. আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে ও ম্যানচেস্টার সিটি) — ৩৭৮ পয়েন্ট
৯. মাইকেল ওলিসে (ফ্রান্স ও বায়ার্ন মিউনিখ) — ২৯৬ পয়েন্ট
১০. ফ্যাবিয়ান রুইজ (স্পেন ও পিএসজি) — ২০১ পয়েন্ট
মন্তব্যসমূহ