ঢাকা    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইউক্রেনের রুশ নিয়ন্ত্রিত ওলেশকিতে শেষ হলো যুদ্ধবিরতি

ইউক্রেনের রুশ নিয়ন্ত্রিত ওলেশকিতে শেষ হলো যুদ্ধবিরতি
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ওলেশকি শহরকে ঘিরে কার্যকর থাকা বিশেষ মানবিক যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক মেয়াদ শেষ হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) রাতে এ যুদ্ধবিরতির সময়সীমা উত্তীর্ণ হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ইউক্রেনের মানবাধিকার কমিশনার দিমিত্রো লুবিনেৎস। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরুর পর এটিই ছিল উভয় পক্ষের মধ্যে কার্যকর হওয়া সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের স্থানীয় যুদ্ধবিরতি।

দিমিত্রো লুবিনেৎস জানান, গত ২৭ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী এ যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর ছিল।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া সামরিক অভিযান শুরুর প্রাথমিক ধাপেই ওলেশকি শহরটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়। ভৌগোলিকভাবে নিপার নদীর বাম তীরে অবস্থিত এ শহরটি ইউক্রেন নিয়ন্ত্রিত খেরসন শহরের ঠিক বিপরীত পাশে। পরবর্তীতে ২০২২ সালের নভেম্বরে ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনী খেরসন শহরসহ নদীর পশ্চিম তীরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পুনর্দখল করলেও ওলেশকি মস্কোর সামরিক নিয়ন্ত্রণেই থেকে যায়।

দীর্ঘ সংঘাতের কারণে শহরটিতে বসবাসরত প্রায় ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার বেসামরিক নাগরিক চরম মানবিক সংকটের মুখে পড়েন। সেখানে সুপেয় পানি, খাদ্য ও জরুরি জীবনরক্ষাকারী ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দেয়। এই আটকে পড়া জনগোষ্ঠীর কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছানো এবং যারা এলাকা ত্যাগ করতে চান তাদের জন্য নিরাপদ করিডোর তৈরির লক্ষ্যেই এ যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হয়।

গত ২৩ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প প্রকাশ করেন যে ওলেশকিতে মানবিক তৎপরতা পরিচালনার জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইউক্রেনের পক্ষে মানবাধিকার কমিশনার দিমিত্রো লুবিনেৎস এবং রাশিয়ার পক্ষে দেশটির মানবাধিকারবিষয়ক কমিশনার ইয়ানা লান্ত্রাতোভা এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি সমন্বয় করেন। সমঝোতার আওতায় গুলিবর্ষণ বন্ধ রাখা, ত্রাণ প্রবেশ, মাইন অপসারণ এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে যাতায়াত নিশ্চিত করার শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল।

যুদ্ধবিরতির নির্ধারিত দিনগুলোতে উভয় পক্ষই শর্ত মেনে চলেছে এবং সহায়তা প্রবেশের পথ থেকে মাইন অপসারণের কাজও শুরু হয়েছিল বলে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ওলেশকিতে মানবিক ত্রাণ সরবরাহ এবং আটকে পড়া নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম পরবর্তীতে কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি।

ট্যাগ : ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


ইউক্রেনের রুশ নিয়ন্ত্রিত ওলেশকিতে শেষ হলো যুদ্ধবিরতি

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ওলেশকি শহরকে ঘিরে কার্যকর থাকা বিশেষ মানবিক যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক মেয়াদ শেষ হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) রাতে এ যুদ্ধবিরতির সময়সীমা উত্তীর্ণ হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ইউক্রেনের মানবাধিকার কমিশনার দিমিত্রো লুবিনেৎস। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরুর পর এটিই ছিল উভয় পক্ষের মধ্যে কার্যকর হওয়া সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের স্থানীয় যুদ্ধবিরতি।

দিমিত্রো লুবিনেৎস জানান, গত ২৭ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী এ যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর ছিল।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া সামরিক অভিযান শুরুর প্রাথমিক ধাপেই ওলেশকি শহরটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়। ভৌগোলিকভাবে নিপার নদীর বাম তীরে অবস্থিত এ শহরটি ইউক্রেন নিয়ন্ত্রিত খেরসন শহরের ঠিক বিপরীত পাশে। পরবর্তীতে ২০২২ সালের নভেম্বরে ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনী খেরসন শহরসহ নদীর পশ্চিম তীরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পুনর্দখল করলেও ওলেশকি মস্কোর সামরিক নিয়ন্ত্রণেই থেকে যায়।

দীর্ঘ সংঘাতের কারণে শহরটিতে বসবাসরত প্রায় ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার বেসামরিক নাগরিক চরম মানবিক সংকটের মুখে পড়েন। সেখানে সুপেয় পানি, খাদ্য ও জরুরি জীবনরক্ষাকারী ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দেয়। এই আটকে পড়া জনগোষ্ঠীর কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছানো এবং যারা এলাকা ত্যাগ করতে চান তাদের জন্য নিরাপদ করিডোর তৈরির লক্ষ্যেই এ যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হয়।

গত ২৩ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প প্রকাশ করেন যে ওলেশকিতে মানবিক তৎপরতা পরিচালনার জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইউক্রেনের পক্ষে মানবাধিকার কমিশনার দিমিত্রো লুবিনেৎস এবং রাশিয়ার পক্ষে দেশটির মানবাধিকারবিষয়ক কমিশনার ইয়ানা লান্ত্রাতোভা এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি সমন্বয় করেন। সমঝোতার আওতায় গুলিবর্ষণ বন্ধ রাখা, ত্রাণ প্রবেশ, মাইন অপসারণ এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে যাতায়াত নিশ্চিত করার শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল।

যুদ্ধবিরতির নির্ধারিত দিনগুলোতে উভয় পক্ষই শর্ত মেনে চলেছে এবং সহায়তা প্রবেশের পথ থেকে মাইন অপসারণের কাজও শুরু হয়েছিল বলে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ওলেশকিতে মানবিক ত্রাণ সরবরাহ এবং আটকে পড়া নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম পরবর্তীতে কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ