ঢাকা    শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সীমান্তে বিজিবির অভিযানে আটক ১১ মিয়ানমারের নাগরিক

সীমান্তে বিজিবির অভিযানে আটক ১১ মিয়ানমারের নাগরিক
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় পৃথক অভিযানে ১১ জন মিয়ানমারের নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এর মধ্যে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের গাছবুনিয়া এলাকায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) ও পুলিশের যৌথ অভিযানে আটজনকে আটক করা হয়। বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর মো. মেহেদী হাসান আশিকের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সীমান্তের ৪১ নম্বর পিলার থেকে প্রায় চার কিলোমিটার ভেতরে বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন মংবা তংচংগা (৩৪), মং এম (২০), কিংলা থুয়াং (২১), রুপার (১৯), থাইংসা মং (৪০), তুলি (২০), তানতান নাইং (২০) এবং মংতা নাইং (২০)। বিজিবি জানিয়েছে, তাদের কারও কাছে বাংলাদেশে প্রবেশের বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা অন্য কোনো ভ্রমণ নথি ছিল না। তারা সবাই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু জেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের একজন মংবা তংচংগা নিজেকে বাংলাদেশের নাগরিক দাবি করে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধনের কপি দেখান। তবে প্রাথমিক যাচাইয়ে ওই নথির সঙ্গে তার পরিচয়ের মিল পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জালিয়াতি বা প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার পর রেজুপাড়া বিওপির নায়েব সুবেদার মো. মিরাজ আলী ভূঁইয়া বাদী হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬-এর ১৪ ধারায় মামলা করেন। পরে আটক আটজনকে আদালতে পাঠানো হয়।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজ্জামেল হক জানান, বিজিবির অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

এদিকে একই দিন দুপুরে গর্জনবুনিয়া বিওপির সদস্যরা পৃথক অভিযানে আরও তিনজন মিয়ানমারের নারীকে আটক করেন। পরে বিকেলে সীমান্তের ৩৭/২ নম্বর পিলারের বাইশফাঁড়ি বিওপির দায়িত্বাধীন এলাকা দিয়ে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়।

ফেরত পাঠানো তিনজন হলেন মানুসিং তংচঙ্গা (৬২), লাকি মং তংচঙ্গা (৩৮) এবং মেতু মং তংচঙ্গা (১২)। তাদের বাড়ি মিয়ানমারের বলিবাজার এলাকার হুয়াংকিং গ্রামে।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানবপাচার, মাদক পাচার ও চোরাচালানসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগ : বান্দরবান বিজিবি মিয়ানমার

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


সীমান্তে বিজিবির অভিযানে আটক ১১ মিয়ানমারের নাগরিক

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

featured Image

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় পৃথক অভিযানে ১১ জন মিয়ানমারের নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এর মধ্যে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের গাছবুনিয়া এলাকায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) ও পুলিশের যৌথ অভিযানে আটজনকে আটক করা হয়। বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর মো. মেহেদী হাসান আশিকের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সীমান্তের ৪১ নম্বর পিলার থেকে প্রায় চার কিলোমিটার ভেতরে বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন মংবা তংচংগা (৩৪), মং এম (২০), কিংলা থুয়াং (২১), রুপার (১৯), থাইংসা মং (৪০), তুলি (২০), তানতান নাইং (২০) এবং মংতা নাইং (২০)। বিজিবি জানিয়েছে, তাদের কারও কাছে বাংলাদেশে প্রবেশের বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা অন্য কোনো ভ্রমণ নথি ছিল না। তারা সবাই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু জেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের একজন মংবা তংচংগা নিজেকে বাংলাদেশের নাগরিক দাবি করে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধনের কপি দেখান। তবে প্রাথমিক যাচাইয়ে ওই নথির সঙ্গে তার পরিচয়ের মিল পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জালিয়াতি বা প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার পর রেজুপাড়া বিওপির নায়েব সুবেদার মো. মিরাজ আলী ভূঁইয়া বাদী হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬-এর ১৪ ধারায় মামলা করেন। পরে আটক আটজনকে আদালতে পাঠানো হয়।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজ্জামেল হক জানান, বিজিবির অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

এদিকে একই দিন দুপুরে গর্জনবুনিয়া বিওপির সদস্যরা পৃথক অভিযানে আরও তিনজন মিয়ানমারের নারীকে আটক করেন। পরে বিকেলে সীমান্তের ৩৭/২ নম্বর পিলারের বাইশফাঁড়ি বিওপির দায়িত্বাধীন এলাকা দিয়ে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়।

ফেরত পাঠানো তিনজন হলেন মানুসিং তংচঙ্গা (৬২), লাকি মং তংচঙ্গা (৩৮) এবং মেতু মং তংচঙ্গা (১২)। তাদের বাড়ি মিয়ানমারের বলিবাজার এলাকার হুয়াংকিং গ্রামে।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানবপাচার, মাদক পাচার ও চোরাচালানসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ