ঢাকা    শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

প্রতিটি শিশুর জন্মে একটি গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রতিটি শিশুর জন্মে একটি গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রকৃতি ও সৃষ্টির উপকার ভোগ করতে হলে মানুষেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সব সৃষ্টির যত্ন ও পরিচর্যা করা মানবসমাজের গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা, জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে মানবসমাজের সম্পর্ক গভীর ও অবিচ্ছেদ্য। নিরাপদ বাস্তুতন্ত্র ছাড়া মানুষের নিরাপদ বেড়ে ওঠা সম্ভব নয়। তাই পরিবেশ মেলা ও বৃক্ষমেলার আয়োজন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থ ও সুন্দর জীবনের জন্য নিরাপদ বিনিয়োগ।

তিনি বলেন, সবুজায়নের গুরুত্ব সবারই জানা। আগামী প্রজন্মের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য বৃক্ষরোপণ জরুরি। একটি সন্তান জন্ম নিলে একটি গাছ লাগানোর মাধ্যমে সেই জন্মকে স্মরণীয় করে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক। এভাবেই সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলন এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী জানান, পরিবেশ সংরক্ষণে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু, ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বেশ কিছু কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠন সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছে। তবে যত্রতত্র গাছ লাগালেই হবে না; কোন পরিবেশে, কোন মাটিতে, কোন আবহাওয়ায় কোন প্রজাতির গাছ উপযোগী, তা যাচাই করা জরুরি।

তিনি বলেন, ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণির মতো দ্রুতবর্ধনশীল গাছ পরিবেশের জন্য কতটা উপযোগী, তা গবেষণার বিষয়। নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির ওষুধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয়, বনজ, ফলদ, অর্থকরী ও বিপন্ন প্রজাতির গাছকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

তারেক রহমান বলেন, নতুন গাছ লাগানো জরুরি হলেও রোপিত গাছ নিরাপদে বেড়ে উঠছে কি না, তা নিশ্চিত করা আরও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে থাকা বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা সবচেয়ে বেশি জরুরি।

তিনি জানান, পরিবেশ রক্ষায় সরকার বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়; এটি প্রতিদিনের বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, নদীভাঙন ও লবণাক্ততা কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং জনজীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পরিবেশকে আলাদা কোনো খাত হিসেবে নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। সরকারের লক্ষ্য হলো এমন একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণ একসঙ্গে এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখননের কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এটি কৃষি সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায়ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, পরিবেশ উন্নয়ন শুধু বৃক্ষরোপণ বা খাল খননের ওপর নির্ভর করে না। রাজধানীসহ সারাদেশের নগর, বন্দর ও শহরতলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও বড় পরিবর্তন আনতে হবে।

তারেক রহমান জানান, প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে সরকার কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস, রিইউজ, রিসাইকেল নীতি জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সুশৃঙ্খল করতে শুধু নগর প্রশাসন বা পুলিশের ওপর নির্ভর করলে হবে না। প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেখানে সেখানে বর্জ্য বা উচ্ছিষ্ট না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে। নিজে সুস্থ থাকতে এবং পরিবারের জন্য সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

ট্যাগ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃক্ষরোপণ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

আরও পড়ুন

জাতীয়

কথা

এতক্ষণ পর্যন্ত আপনারা হয়তো খেয়াল করেছেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কথা বলার সময় আমি সবসময় 'ইনশাআল্লাহ' বলতাম। কিন্তু আজ, এই রাতে আমরা সেই 'ইনশাআল্লাহ'কে …

আবদুল এল-সাইয়েদযুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সেনেটর

মাদরাসাগুলোতে জঘন্য অনাচারের যত ঘটনা শোনা যায়, তার অধিকাংশই ভুঁইফোঁড়, মানহীন প্রাইভেট মাদরাসা।

শায়খ আহমাদুল্লাহইসলামিক স্কলার

আজ সারা দেশে যে জেন-জি আন্দোলন দেখছি, তার সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে। আমাদের পথ দেখানো এবং তরুণদের প্রতি সংহতি ও সমর্থনের জন্য আপনাদের (বাংলাদেশিদের) অভিন…

নেহা বোরাপ্রেসিডেন্ট, অল ইন্ডিয়ান স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন

প্রিয় চাঁদাবাজ ভাইয়েরা, আমাদের জানটার নিরাপত্তা দেন। আমরা আপনাদের নিয়মিত ভিক্ষা দেব, তবুও বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নষ্ট করবেন না। বাংলাদেশের প্রতিটি মো…

হাসনাত আবদুল্লাহসংসদ সদস্য, কুমিল্লা-৪

মিরপুরের টিকাকেন্দ্র-হাসপাতালের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্নির্মাণ এবং ইসিবি চত্বরের স্টুডিও হামলার ক্ষতিপূরণ সরকারকে দিতে হবে। মূল হোতাসহ জড়িত সবাইকে দ্রুত আইন…

আসিফ মাহমুদমুখপাত্র, এনসিপি

নাজিম উদ্দীনের সম্পদ মনে করে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভেঙেছে। এটা অনাকাঙিক্ষত।

রাশেদ খানপ্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী

গা'জা যু'দ্ধে হাজার হাজার শিশুসহ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় মানবিক সহায়তা ছিল অত্যন্ত সীমিত। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপজুড়ে…

খলিলুর রহমানসভাপতি, সাধারণ পরিষদ জাতিসংঘ

আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশ থেকে বাদ দিতে হলে সংস্কার দরকার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহ'ত্যার বিচার-এই তিনটা দাবি মানলেই কক'টেল আর ফুটবে না ঢাকা শহরে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীমুখ্য সমন্বয়ক, এনসিপি
সব কথা

সংবাদ সংক্ষেপ

০১/০৩

নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানির অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত দাবি

দেশের নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে উদ্বেগ জানিয়েছে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স (এনএসএ)। দ্রুত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সম্প্রতি একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ৬৭ জন সাবেক ও বর্তমান নারী ক্রিকেটারের সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ উঠে আসে।

এক নজরে পুরো খবর
০২/০৩

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ছাড়াল

দুই দিনের ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বেড়ে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। পাকা স্বর্ণের দাম বাড়ায় এই সমন্বয়; বুধবার দুপুর থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

এক নজরে পুরো খবর
০৩/০৩

মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ডিএমপি। মিরপুর ও পল্লবীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বাড়তি নজরদারি চলছে।

এক নজরে পুরো খবর
সব সংক্ষেপ
শনিবার৭
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
  • ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

নামাজের সময়সূচি

ঢাকা ও আশপাশ
পরবর্তী নামাজ—
  • ফজর৪:৫০ ভোর
  • সূর্যোদয়৬:০৮ সকাল
  • যোহর১১:৪৪ সকাল
  • আসর৩:৪১ বিকাল
  • মাগরিব৫:১৮ বিকাল
  • এশা৬:৩৫ সন্ধ্যা

সাহরির শেষ ৪:৪৭ ভোরইফতার ৫:১৮ বিকাল

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


প্রতিটি শিশুর জন্মে একটি গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রকৃতি ও সৃষ্টির উপকার ভোগ করতে হলে মানুষেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সব সৃষ্টির যত্ন ও পরিচর্যা করা মানবসমাজের গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা, জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে মানবসমাজের সম্পর্ক গভীর ও অবিচ্ছেদ্য। নিরাপদ বাস্তুতন্ত্র ছাড়া মানুষের নিরাপদ বেড়ে ওঠা সম্ভব নয়। তাই পরিবেশ মেলা ও বৃক্ষমেলার আয়োজন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থ ও সুন্দর জীবনের জন্য নিরাপদ বিনিয়োগ।

তিনি বলেন, সবুজায়নের গুরুত্ব সবারই জানা। আগামী প্রজন্মের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য বৃক্ষরোপণ জরুরি। একটি সন্তান জন্ম নিলে একটি গাছ লাগানোর মাধ্যমে সেই জন্মকে স্মরণীয় করে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক। এভাবেই সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলন এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী জানান, পরিবেশ সংরক্ষণে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু, ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বেশ কিছু কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠন সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছে। তবে যত্রতত্র গাছ লাগালেই হবে না; কোন পরিবেশে, কোন মাটিতে, কোন আবহাওয়ায় কোন প্রজাতির গাছ উপযোগী, তা যাচাই করা জরুরি।

তিনি বলেন, ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণির মতো দ্রুতবর্ধনশীল গাছ পরিবেশের জন্য কতটা উপযোগী, তা গবেষণার বিষয়। নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির ওষুধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয়, বনজ, ফলদ, অর্থকরী ও বিপন্ন প্রজাতির গাছকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

তারেক রহমান বলেন, নতুন গাছ লাগানো জরুরি হলেও রোপিত গাছ নিরাপদে বেড়ে উঠছে কি না, তা নিশ্চিত করা আরও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে থাকা বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা সবচেয়ে বেশি জরুরি।

তিনি জানান, পরিবেশ রক্ষায় সরকার বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়; এটি প্রতিদিনের বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, নদীভাঙন ও লবণাক্ততা কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং জনজীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পরিবেশকে আলাদা কোনো খাত হিসেবে নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। সরকারের লক্ষ্য হলো এমন একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণ একসঙ্গে এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখননের কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এটি কৃষি সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায়ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, পরিবেশ উন্নয়ন শুধু বৃক্ষরোপণ বা খাল খননের ওপর নির্ভর করে না। রাজধানীসহ সারাদেশের নগর, বন্দর ও শহরতলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও বড় পরিবর্তন আনতে হবে।

তারেক রহমান জানান, প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে সরকার কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস, রিইউজ, রিসাইকেল নীতি জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সুশৃঙ্খল করতে শুধু নগর প্রশাসন বা পুলিশের ওপর নির্ভর করলে হবে না। প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেখানে সেখানে বর্জ্য বা উচ্ছিষ্ট না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে। নিজে সুস্থ থাকতে এবং পরিবারের জন্য সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ