ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ২০ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্পে আত্মঘাতী হামলা

পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্পে আত্মঘাতী হামলা
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে পাকিস্তান কোস্ট গার্ডের একটি ক্যাম্পে আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি। সংগঠনটির দাবি, হামলায় অন্তত ৩০ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

তবে পাকিস্তান সরকার এখন পর্যন্ত এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি। স্বাধীনভাবেও হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বেলুচিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য বেলুচিস্তান পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোয়াদর জেলার উপকূলীয় শহর জিওয়ানির পানওয়ান এলাকায় অবস্থিত কোস্ট গার্ডের একটি ক্যাম্পে হামলাটি চালানো হয়।

বেলুচ লিবারেশন আর্মির মুখপাত্র জিয়ান্দ বেলুচের নামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, সংগঠনটির বিশেষ ইউনিট ‘মাজিদ ব্রিগেড’ এই অভিযান পরিচালনা করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল আত্মঘাতী কমান্ডো অভিযান।

সংগঠনটির দাবি, হামলার আগে তাদের সদস্যরা ক্যাম্পের ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর বিস্ফোরণ ও সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এতে ৩০ জনের বেশি নিরাপত্তা সদস্য নিহত এবং আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বিএলএ।

তবে পাকিস্তানের সামরিক বা বেসামরিক কর্তৃপক্ষ এখনো হতাহতের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। হামলায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিএলএ জানিয়েছে, বেলুচিস্তানে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এ হামলা চালানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটি প্রদেশটির সামরিক, আধাসামরিক ও সরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আসছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বেলুচিস্তানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বেড়েছে। পাকিস্তানের আয়তনে সবচেয়ে বড় হলেও জনসংখ্যায় সবচেয়ে ছোট এই প্রদেশে বহু বছর ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছে।

বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর অভিযোগ, বেলুচিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য সুবিধা স্থানীয় জনগণ পাচ্ছে না। তারা অধিক স্বায়ত্তশাসন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর স্থানীয়দের নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়ে আসছে।

অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার বেলুচ লিবারেশন আর্মিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে। সংগঠনটির বিরুদ্ধে নিয়মিত নিরাপত্তা অভিযানও চালাচ্ছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাকিস্তান ছাড়াও বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশ বিএলএকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেলুচিস্তানে সংঘটিত বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী হামলার দায় বিএলএর ওপর এসেছে। এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর স্থাপনায় হামলা ও আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনাও রয়েছে।

তবে জিওয়ানির সর্বশেষ হামলা নিয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না আসায় হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

ট্যাগ : পাকিস্তান কোস্ট গার্ড নিরাপত্তা বাহিনী ইন্ডিয়া টুডে

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্পে আত্মঘাতী হামলা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে পাকিস্তান কোস্ট গার্ডের একটি ক্যাম্পে আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি। সংগঠনটির দাবি, হামলায় অন্তত ৩০ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

তবে পাকিস্তান সরকার এখন পর্যন্ত এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি। স্বাধীনভাবেও হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বেলুচিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য বেলুচিস্তান পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোয়াদর জেলার উপকূলীয় শহর জিওয়ানির পানওয়ান এলাকায় অবস্থিত কোস্ট গার্ডের একটি ক্যাম্পে হামলাটি চালানো হয়।

বেলুচ লিবারেশন আর্মির মুখপাত্র জিয়ান্দ বেলুচের নামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, সংগঠনটির বিশেষ ইউনিট ‘মাজিদ ব্রিগেড’ এই অভিযান পরিচালনা করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল আত্মঘাতী কমান্ডো অভিযান।

সংগঠনটির দাবি, হামলার আগে তাদের সদস্যরা ক্যাম্পের ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর বিস্ফোরণ ও সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এতে ৩০ জনের বেশি নিরাপত্তা সদস্য নিহত এবং আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বিএলএ।

তবে পাকিস্তানের সামরিক বা বেসামরিক কর্তৃপক্ষ এখনো হতাহতের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। হামলায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিএলএ জানিয়েছে, বেলুচিস্তানে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এ হামলা চালানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটি প্রদেশটির সামরিক, আধাসামরিক ও সরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আসছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বেলুচিস্তানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বেড়েছে। পাকিস্তানের আয়তনে সবচেয়ে বড় হলেও জনসংখ্যায় সবচেয়ে ছোট এই প্রদেশে বহু বছর ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছে।

বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর অভিযোগ, বেলুচিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য সুবিধা স্থানীয় জনগণ পাচ্ছে না। তারা অধিক স্বায়ত্তশাসন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর স্থানীয়দের নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়ে আসছে।

অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার বেলুচ লিবারেশন আর্মিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে। সংগঠনটির বিরুদ্ধে নিয়মিত নিরাপত্তা অভিযানও চালাচ্ছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাকিস্তান ছাড়াও বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশ বিএলএকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেলুচিস্তানে সংঘটিত বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী হামলার দায় বিএলএর ওপর এসেছে। এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর স্থাপনায় হামলা ও আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনাও রয়েছে।

তবে জিওয়ানির সর্বশেষ হামলা নিয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না আসায় হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ