ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ২০ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

খামেনির পাশে ছোট কফিনে ১৪ মাসের নাতনি জাহরা মোহাম্মাদী

খামেনির পাশে ছোট কফিনে ১৪ মাসের নাতনি জাহরা মোহাম্মাদী
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির আনুষ্ঠানিক জানাজা শনিবার তেহরানে শুরু হয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতাকায় মোড়ানো তার কফিন রাজধানীর গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে আনা হয়।

খামেনির কফিনের ওপর রাখা ছিল তার পরিচিত কালো পাগড়ি। তার পাশে রাখা হয় পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের মরদেহ। খামেনির কফিনের পাশাপাশি আরও চারটি কফিন রাখা হয়েছে, যার মধ্যে একটি ছিল তার ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদী গোলপায়গানির।

ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো অন্য কফিনগুলোতে ছিলেন খামেনির মেয়ের জামাই মেসবাহ উল হুদা বাঘেরি, বড় মেয়ে সৈয়দা বুশরা হোসেইনি খামেনি এবং তার পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ আদেল। জাহরা হাদ্দাদ আদেল বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির স্ত্রী।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এরপর থেকেই দেশজুড়ে শোক পালন করা হচ্ছে।

ছয় দিনব্যাপী দাফন ও শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে শুক্রবার খামেনির মরদেহ তেহরানে আনা হয়। এই কর্মসূচির আওতায় তার মরদেহ ইরান ও প্রতিবেশী ইরাকের বিভিন্ন শহরে নেওয়া হবে।

শনিবার সকালে সাধারণ মানুষের জন্য গ্র্যান্ড মোসাল্লা খুলে দেওয়ার আগেই শুক্রবার রাত থেকে বহু সমর্থক সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। কর্তৃপক্ষের ধারণা, আগামী তিন দিনে শুধু তেহরানেই দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নিতে পারেন।

ফটক খুলে দেওয়ার পর হাজার হাজার মানুষ জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভেতরে প্রবেশ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই বিশাল প্রাঙ্গণ শোকাহত মানুষের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে যায়।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, অনেক শোকাহত মানুষের হাতে লাল ব্যানার দেখা গেছে, যা প্রতিশোধের আহ্বানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ সময় তারা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী এবং প্রতিশোধের দাবিতে স্লোগান দেন।

এক শোকাহত তরুণ বলেন, তিনি প্রিয় নেতা আলী খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে এসেছেন। এমন দিন দেখতে হবে, তা তিনি কখনো ভাবেননি।

শুক্রবার ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি মোহাম্মদ বাগের গালিবাফকে আবেগাপ্লুত অবস্থায় দেখা যায়।

জানাজা অনুষ্ঠানে ইরানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। ভারতের পক্ষ থেকে সৈয়দ আতা হাসনাইন ও পবিত্র মার্গারিটা অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করেন।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, খামেনির কফিন সোমবার পর্যন্ত তেহরানে রাখা হবে। ওই দিন রাজধানীজুড়ে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার মরদেহ নেওয়া হবে ধর্মীয় নগরী কোমে। বুধবার তা ইরাকের পবিত্র শহরগুলোতে নেওয়া হবে। এরপর বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।

সূত্র: এএফপি

ট্যাগ : ইরান আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তেহরান

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


খামেনির পাশে ছোট কফিনে ১৪ মাসের নাতনি জাহরা মোহাম্মাদী

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির আনুষ্ঠানিক জানাজা শনিবার তেহরানে শুরু হয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতাকায় মোড়ানো তার কফিন রাজধানীর গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে আনা হয়।

খামেনির কফিনের ওপর রাখা ছিল তার পরিচিত কালো পাগড়ি। তার পাশে রাখা হয় পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের মরদেহ। খামেনির কফিনের পাশাপাশি আরও চারটি কফিন রাখা হয়েছে, যার মধ্যে একটি ছিল তার ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদী গোলপায়গানির।

ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো অন্য কফিনগুলোতে ছিলেন খামেনির মেয়ের জামাই মেসবাহ উল হুদা বাঘেরি, বড় মেয়ে সৈয়দা বুশরা হোসেইনি খামেনি এবং তার পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ আদেল। জাহরা হাদ্দাদ আদেল বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির স্ত্রী।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এরপর থেকেই দেশজুড়ে শোক পালন করা হচ্ছে।

ছয় দিনব্যাপী দাফন ও শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে শুক্রবার খামেনির মরদেহ তেহরানে আনা হয়। এই কর্মসূচির আওতায় তার মরদেহ ইরান ও প্রতিবেশী ইরাকের বিভিন্ন শহরে নেওয়া হবে।

শনিবার সকালে সাধারণ মানুষের জন্য গ্র্যান্ড মোসাল্লা খুলে দেওয়ার আগেই শুক্রবার রাত থেকে বহু সমর্থক সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। কর্তৃপক্ষের ধারণা, আগামী তিন দিনে শুধু তেহরানেই দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নিতে পারেন।

ফটক খুলে দেওয়ার পর হাজার হাজার মানুষ জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভেতরে প্রবেশ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই বিশাল প্রাঙ্গণ শোকাহত মানুষের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে যায়।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, অনেক শোকাহত মানুষের হাতে লাল ব্যানার দেখা গেছে, যা প্রতিশোধের আহ্বানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ সময় তারা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী এবং প্রতিশোধের দাবিতে স্লোগান দেন।

এক শোকাহত তরুণ বলেন, তিনি প্রিয় নেতা আলী খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে এসেছেন। এমন দিন দেখতে হবে, তা তিনি কখনো ভাবেননি।

শুক্রবার ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি মোহাম্মদ বাগের গালিবাফকে আবেগাপ্লুত অবস্থায় দেখা যায়।

জানাজা অনুষ্ঠানে ইরানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। ভারতের পক্ষ থেকে সৈয়দ আতা হাসনাইন ও পবিত্র মার্গারিটা অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করেন।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, খামেনির কফিন সোমবার পর্যন্ত তেহরানে রাখা হবে। ওই দিন রাজধানীজুড়ে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার মরদেহ নেওয়া হবে ধর্মীয় নগরী কোমে। বুধবার তা ইরাকের পবিত্র শহরগুলোতে নেওয়া হবে। এরপর বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।

সূত্র: এএফপি


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ