বিনামূল্যে জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘুরতে পারবে শিক্ষার্থীরা
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ চালু হচ্ছে। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে এ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, খাবার ও নিরাপত্তার দায়িত্বও নেবে সিটি করপোরেশন।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নগর ভবনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।এই উদ্যোগের আওতায় শিক্ষার্থীরা বিনা টিকিটে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরসহ ঢাকার বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে।সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, শিক্ষা সফরে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের পরিবহন ও খাবারের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।একই সঙ্গে সফর চলাকালে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্বও থাকবে সংস্থাটির।অন্যদিকে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষামূলক আয়োজন পরিচালনা করবে।এসব আয়োজনের মধ্যে রয়েছে গাইডের সহায়তায় ঐতিহাসিক স্থান ঘুরে দেখা, জাদুঘর ও প্রদর্শনী পরিদর্শন, কুইজ প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন এবং রচনা প্রতিযোগিতা।এ কার্যক্রমে শিক্ষার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনগ্রসর পরিবারের সন্তান এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।ফলে আর্থিক ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে যারা সাধারণত শিক্ষা সফরে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায় না, তাদের জন্যও ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ তৈরি হবে।তবে শিক্ষার্থী নির্বাচনের নির্দিষ্ট আবেদনপদ্ধতি কিংবা প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে কতজন অংশ নিতে পারবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।ডিএসসিসি ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি ৩ নভেম্বর ২০২৬ থেকে প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে।তবে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সরাসরি শিক্ষা সফরের কার্যক্রম শুরু হবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি।প্রাথমিক মেয়াদ শেষে কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে চুক্তির মেয়াদ ও পরিধি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হবে। ইতিহাস ও সংস্কৃতিচর্চার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমিক, মানবিক ও সংস্কৃতিমনস্ক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম জানান, শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নান্দনিক বোধ ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বিকাশের সুযোগ তৈরিই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাবসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।