মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলের পোশাকশ্রমিকরা। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহনচালকরা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকার চারটি পোশাক কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক মিছিল নিয়ে শিবু মার্কেট এলাকায় জড়ো হন। পরে তাঁরা মূল সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা কাঠেরপুল এলাকার আবীর ফ্যাশন, মেট্রো নিটওয়্যার, মাইক্রো ফাইবার ও আজাদ নিট কম্পোজিট কারখানার কর্মী বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুরে খাবারের বিরতির পর আবীর ফ্যাশনের শ্রমিকরা কাজে ফিরে না গিয়ে কারখানার সামনে অবস্থান নেন।
এরপর আশপাশের অন্য তিনটি কারখানার শ্রমিকরাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন।
একপর্যায়ে চার কারখানার শ্রমিকরা একত্র হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি কাঠেরপুল থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট এলাকার দিকে এগিয়ে যায়।
শ্রমিকদের মিছিল শিবু মার্কেট এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাঁদের মূল সড়কে প্রবেশে বাধা দেয়।
তবে আন্দোলনকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে লিংক রোডে অবস্থান নেন।
এরপর সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
হঠাৎ অবরোধের কারণে আটকা পড়েন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রী ও পরিবহনচালকরা।
এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) একই এলাকায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কয়েক ঘণ্টা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করেন পোশাকশ্রমিকরা।
সেদিন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের আশ্বাসে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। পরে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মঙ্গলবার সকালেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। তবে দুপুরের খাবারের বিরতির পর আবারও আন্দোলনে নামেন শ্রমিকরা।
নতুন করে শ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে।
পরিস্থিতি শান্ত রাখতে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পাশাপাশি সড়ক থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
কোনো ধরনের সহিংসতা কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে বলেও জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
মন্তব্যসমূহ