ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

২ গোলে পিছিয়ে থেকেও সেনেগালকে হারাল বেলজিয়াম

২ গোলে পিছিয়ে থেকেও সেনেগালকে হারাল বেলজিয়াম
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

রাশিয়া বিশ্বকাপের সেই রোস্তভ-অন-ডনের রাত যেন আবার ফিরে এল সিয়াটলে। ২০১৮ সালে জাপানের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে ৩-২ ব্যবধানে জিতেছিল বেলজিয়াম। আট বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও একই ধরনের রোমাঞ্চ উপহার দিল ‘রেড ডেভিলস’রা।

এবার সেনেগালের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে ইউরি টিলেমানসের পেনাল্টি গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে বেলজিয়াম। এই জয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে তারা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলছিল সেনেগাল। প্রথমার্ধে হাবিব দিয়ারার গোলে এগিয়ে যায় আফ্রিকান দলটি। বিরতির পর ইসমাইলা সার ব্যবধান দ্বিগুণ করলে বেলজিয়ামের বিদায়ের শঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়।

২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়া একের পর এক পরিবর্তন আনেন। মাঠে নামেন রোমেলু লুকাকু। শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

৮৬ মিনিটে টমাস মিউনিয়েরের ক্রস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করে বেলজিয়ামকে ম্যাচে ফেরান লুকাকু। এর তিন মিনিট পর লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে সমতা ফেরান ইউরি টিলেমানস।

এর আগে সাদিও মানে বেলজিয়ামের জালে তৃতীয় গোল পাঠানোর কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু থিবো কুর্তোয়া দুর্দান্ত সেভে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।

নির্ধারিত সময় শেষে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১২৪ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডে নাটকীয় মুহূর্ত আসে। বেলজিয়ামের আক্রমণের সময় টিলেমানসকে ফাউল করেন সেনেগালের লামিন কামারা। ভিএআর দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।

সেনেগালের খেলোয়াড়রা সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানালেও শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি টিলেমানস। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে দেরিতে হওয়া গোলগুলোর একটি হয়ে যায় এই পেনাল্টি।

শেষ বাঁশি বাজার পর সেনেগাল শিবিরে নেমে আসে হতাশা। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও ম্যাচ হারার ধাক্কা মেনে নিতে পারছিলেন না ফুটবলাররা। অন্যদিকে বেলজিয়াম শিবিরে ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাস।

ম্যাচ শেষে বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়া বলেন, দল শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে। খেলোয়াড়দের মধ্যে যে আক্রমণাত্মক মানসিকতা দেখা গেছে, সেটিই তার কাছে সবচেয়ে ইতিবাচক দিক।

সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও বলেন, এটি নির্মম পরাজয়। তার দল ২-০ গোলে এগিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল, কিন্তু ফুটবল ম্যাচ ৮৫ মিনিটের নয়। বেলজিয়াম ম্যাচে ফিরেছে, আর তারা সেই চাপ সামলাতে পারেনি।

এই জয়ে শেষ ষোলোয় যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম। রোমাঞ্চ, নাটকীয়তা ও বিতর্ক মিলিয়ে সেনেগালের বিপক্ষে এই জয় বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ হয়ে থাকল।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ট্যাগ : বিশ্বকাপ ফুটবল সেনেগাল বেলজিয়াম

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


২ গোলে পিছিয়ে থেকেও সেনেগালকে হারাল বেলজিয়াম

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাশিয়া বিশ্বকাপের সেই রোস্তভ-অন-ডনের রাত যেন আবার ফিরে এল সিয়াটলে। ২০১৮ সালে জাপানের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে ৩-২ ব্যবধানে জিতেছিল বেলজিয়াম। আট বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও একই ধরনের রোমাঞ্চ উপহার দিল ‘রেড ডেভিলস’রা।

এবার সেনেগালের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে ইউরি টিলেমানসের পেনাল্টি গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে বেলজিয়াম। এই জয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে তারা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলছিল সেনেগাল। প্রথমার্ধে হাবিব দিয়ারার গোলে এগিয়ে যায় আফ্রিকান দলটি। বিরতির পর ইসমাইলা সার ব্যবধান দ্বিগুণ করলে বেলজিয়ামের বিদায়ের শঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়।

২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়া একের পর এক পরিবর্তন আনেন। মাঠে নামেন রোমেলু লুকাকু। শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

৮৬ মিনিটে টমাস মিউনিয়েরের ক্রস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করে বেলজিয়ামকে ম্যাচে ফেরান লুকাকু। এর তিন মিনিট পর লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে সমতা ফেরান ইউরি টিলেমানস।

এর আগে সাদিও মানে বেলজিয়ামের জালে তৃতীয় গোল পাঠানোর কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু থিবো কুর্তোয়া দুর্দান্ত সেভে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।

নির্ধারিত সময় শেষে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১২৪ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডে নাটকীয় মুহূর্ত আসে। বেলজিয়ামের আক্রমণের সময় টিলেমানসকে ফাউল করেন সেনেগালের লামিন কামারা। ভিএআর দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।

সেনেগালের খেলোয়াড়রা সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানালেও শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি টিলেমানস। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে দেরিতে হওয়া গোলগুলোর একটি হয়ে যায় এই পেনাল্টি।

শেষ বাঁশি বাজার পর সেনেগাল শিবিরে নেমে আসে হতাশা। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও ম্যাচ হারার ধাক্কা মেনে নিতে পারছিলেন না ফুটবলাররা। অন্যদিকে বেলজিয়াম শিবিরে ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাস।

ম্যাচ শেষে বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়া বলেন, দল শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে। খেলোয়াড়দের মধ্যে যে আক্রমণাত্মক মানসিকতা দেখা গেছে, সেটিই তার কাছে সবচেয়ে ইতিবাচক দিক।

সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও বলেন, এটি নির্মম পরাজয়। তার দল ২-০ গোলে এগিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল, কিন্তু ফুটবল ম্যাচ ৮৫ মিনিটের নয়। বেলজিয়াম ম্যাচে ফিরেছে, আর তারা সেই চাপ সামলাতে পারেনি।

এই জয়ে শেষ ষোলোয় যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম। রোমাঞ্চ, নাটকীয়তা ও বিতর্ক মিলিয়ে সেনেগালের বিপক্ষে এই জয় বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ হয়ে থাকল।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ