ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন (ইউএভি) হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আসন্ন একটি ‘ব্যাপক’ হামলার বিষয়ে সতর্কতা জারি করার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই বৃহস্পতিবার ভোররাতে শহরজুড়ে এই হামলা চালানো হয়।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তাকাচেঙ্কো জানান, শহরজুড়ে প্রায় তিন ডজন স্থানে হামলা হয়েছে, যাতে আটজন নিহত হয়েছেন। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকোর তথ্যমতে, হামলায় আরও অন্তত ৩৪ জন আহত হয়েছেন। একটি ৯ তলা আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ একটি বহুতল অ্যাপার্টমেন্টের বড় অংশ ধসে পড়েছে এবং সেখানে মানুষ আটকা পড়েছে।
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে আয়ারল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরেন জেলেনস্কি। ডাবলিনে আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ‘ব্যাপক রাশিয়ান হামলার’ বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। নাগরিকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার ও নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।
জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে অর্থবহ আলোচনার জন্য প্রস্তুতির কথা জানানো হলেও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ শেষ করতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। পুতিন ইউক্রেন ও সমগ্র ইউরোপের বিরুদ্ধে কেবল আরও আগ্রাসনই দেখতে পান বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হামলার সময় কিয়েভের বাসিন্দারা স্লিপিং ম্যাট নিয়ে ভূগর্ভস্থ স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন। এদিকে ইউক্রেনে এই ব্যাপক হামলার মুখে ন্যাটো ও ইইউ সদস্য প্রতিবেশী পোল্যান্ড সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে, যদিও পরে কোনো আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা না ঘটায় তা ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
মন্তব্যসমূহ