ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় শিশুসহ অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩০ জনের বেশি মানুষ।
বৃহস্পতিবার ভোরের আগে চালানো এই হামলায় কিয়েভের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, বেসামরিক অবকাঠামো ও সেবামূলক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শহরের একাধিক স্থানে আগুন ধরে যায় এবং বিস্ফোরণের শব্দে কয়েক ঘণ্টা ধরে কেঁপে ওঠে রাজধানী।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর টাকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, রুশ বাহিনী আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। হামলার পর শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, হামলায় একটি আবাসিক ভবনের নিচের কয়েকটি তলা ধসে পড়ে। আহতদের মধ্যে জরুরি সেবার কর্মীরাও রয়েছেন।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানান, রুশ বাহিনী ড্রোনের পাশাপাশি ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। হামলায় একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্ভাব্য বড় হামলার সতর্কবার্তা দেন। নতুন গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর তিনি ডাবলিন সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরেন। তিনি নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং পরিবারকে নিরাপদে রাখার আহ্বান জানান।
রুশ হামলার পর প্রতিবেশী পোল্যান্ড নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে। পোলিশ সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইউক্রেন সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি কোস্টিয়ান্টিনিভকার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে। শহরটি দখলে নিতে পারলে ডনবাস অঞ্চলে রাশিয়ার অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।
অন্যদিকে ইউক্রেনীয় কমান্ডারদের দাবি, তারা সাম্প্রতিক সময়ে কিছু এলাকা পুনর্দখল করেছে এবং রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড ও অধিকৃত ক্রিমিয়ার মধ্যকার রসদ সরবরাহের পথ বিঘ্নিত করেছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা এখনো রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাম্প্রতিক হামলা সেই যুদ্ধের ভয়াবহতা আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।
সূত্র: বিবিসি
মন্তব্যসমূহ