ইসরায়েলের জাতীয় সংসদ (নেসেট) নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোটই সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে দেশটিতে এক নতুন রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে ক্ষমতা ধরে রাখতে বিকল্প রাজনৈতিক কৌশল ও নতুন সমীকরণ খুঁজছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি। এর অংশ হিসেবে দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের সঙ্গে পালাক্রমে প্রধানমন্ত্রিত্ব ভাগাভাগির মতো প্রস্তাবও দলের অভ্যন্তরে সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম ইসরায়েল ন্যাশনাল নিউজ-এর বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্ট জানিয়েছে, নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের ম্যাজিক ফিগার প্রধান দুটি শিবিরের কেউই এককভাবে অর্জন করতে পারেনি। এই অচলাবস্থা নিরসনে লিকুদ পার্টির নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে কয়েকটি বিকল্প নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা চলছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান প্রস্তাব হলো—নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের মধ্যে প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদ ভাগ করে নেওয়া। প্রস্তাবিত এ ছক অনুযায়ী, মেয়াদের প্রথম দুই বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নেতানিয়াহু এবং পরবর্তী দুই বছর সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নিতে পারেন বিরোধী দলীয় নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকোট। তবে এ প্রস্তাবের বিপরীতে আইজেনকোট বা বিরোধী জোটের কোনো আনুষ্ঠানিক সবুজ সংকেত এখনো মেলেনি।
লিকুদের সামনে দ্বিতীয় বিকল্পটি হলো অতি-রক্ষণশীল হরেদি (আল্ট্রা-অর্থোডক্স) দলগুলোকে সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ ও মূলধারার জায়নবাদী দলগুলোর সমন্বয়ে একটি বিস্তৃত ‘জাতীয় ঐক্যের সরকার’ গঠন করা। ইসরায়েলের রাজনীতিতে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতির দাবি নিয়ে দীর্ঘদিনের যে তীব্র বিতর্ক রয়েছে, তা এই সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন ‘ইয়াশার পার্টি’ সবার জন্য সামরিক সেবার সমান বাধ্যবাধকতার পক্ষে অনড় অবস্থান নিয়েছে। তাছাড়া নির্বাচনী প্রচারকালে আইজেনকোট একাধিকবার প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে নেতানিয়াহুর আর প্রধানমন্ত্রী পদে থাকা সমীচীন নয়।
তৃতীয় বিকল্প হিসেবে লিকুদ পার্টি বিরোধী শিবির থেকে কয়েকজন স্বতন্ত্র বা অসন্তুষ্ট আইনপ্রণেতাকে ভাগিয়ে এনে ৬০ প্লাস আসনের সামান্য ব্যবধানে সরকার গঠনের সুযোগ খুঁজছে। তবে দলত্যাগের এই ঝুঁকিপূর্ণ খেলায় সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা থেকে যাবে।
বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা ও সংলাপ চলমান থাকা অবস্থায় তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নেতানিয়াহু। দলগুলোর মধ্যকার অচলাবস্থা দ্রুত নিরসন না হলে সাংবিধানিক ক্ষমতা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট বিতরণে মধ্যস্থতা করবেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রিত্বের পদ বণ্টন ও বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ নীতির মতো মৌলিক ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ইসরায়েলকে আবারও একটি আগাম সাধারণ নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
সূত্র: ফার্স্টপোস্ট
মন্তব্যসমূহ