আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানো, বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট আয়োজিত বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের স্বাস্থ্য খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে আগামী দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে চায় বর্তমান সরকার।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতালে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এসব হাসপাতালে ডায়ালাইসিস, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও ফিজিওথেরাপির মতো বিশেষায়িত সেবা যুক্ত করার কথা বলেন তিনি।
সরকারের লক্ষ্য হলো উপজেলা পর্যায়েই উন্নত চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো, যাতে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য সব সময় বড় শহরের হাসপাতালে যেতে না হয়।
তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি অনুষ্ঠানে জানানো হয়নি।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি জানান, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার।
মানসিক রোগ প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতে, মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে পাবনা মানসিক হাসপাতালের কার্যক্রম নিয়েও নির্দেশনা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালটি থেকে সব ধরনের বিনোদন কার্যক্রম সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে কী ধরনের কার্যক্রমের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন এবং কেন সেগুলো সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা সরবরাহকৃত প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকির ওপর হামলার বিষয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি জানান, এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্তে যাঁদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তবে হামলার কারণ, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা সম্পর্কে অনুষ্ঠানে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে পরিবর্তন আনতে হাসপাতালের অবকাঠামো ও চিকিৎসাসুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
আগামী দুই বছরের মধ্যে এসব উদ্যোগের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।
মন্তব্যসমূহ