ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে বিরোধী দলগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেলেও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষমতা ছাড়তে নাও হতে পারে। দেশটির জটিল জোট গঠন প্রক্রিয়ার কারণে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠায় কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। আর এই অন্তর্বর্তী সময়টিতে ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার মুখে যুদ্ধ ও কৌশলগত প্রতিরক্ষা সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ আইনি ক্ষমতা নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের হাতেই ন্যস্ত থাকবে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইউরোনিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এমন গুরুতর আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক থিংকট্যাঙ্ক চ্যাথাম হাউসের জ্যেষ্ঠ কনসাল্টিং ফেলো ইয়োসি মেকেলবার্গ।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) ইসরায়েলে ভোটগ্রহণ চলাকালে মেকেলবার্গ সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনের পরদিনই দেশে নতুন কোনো মন্ত্রিসভা শপথ নেবে না। আনুপাতিক নির্বাচনি কাঠামোর দরুন একটি কার্যকর জোট সরকার গঠনে দলগুলোর মধ্যে ব্যাপক দর-কষাকষির প্রয়োজন হয়। ফলে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার উল্লেখযোগ্য নির্বাহী কর্তৃত্ব ধরে রাখবে, যার মধ্যে যেকোনো নতুন সামরিক অভিযান বা প্রতিরোধমূলক বিমান হামলার অনুমোদন দেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এমন শূন্যতা বা অন্তর্বর্তী পরিস্থিতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে নেতানিয়াহুর লিকুদ নেতৃত্বাধীন জোট এবং সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের পরিবর্তনকামী জোটের মধ্যে। তবে সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারছে না। ফলে বিরোধীরা তুলনামূলক বেশি আসন পেলেও দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে, যা নেতানিয়াহুকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখবে।মেকেলবার্গ আরও উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের নির্বাচনের এক সপ্তাহ পরেই (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই দুই নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়টি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাঁর মতে, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির বিচার থেকে সুরক্ষা এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার আকাক্ষা অনেক সময় তাঁর সামরিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে থাকে। ফলে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার তাগিদে তিনি ইরানকে জড়িয়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারেন কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি শেষ পর্যন্ত বিরোধীরা একটি টেকসই জোট গঠনে সফল হয়, তবে ইরানের বিরুদ্ধে একক সামরিক নির্ভরতার নীতি পুনর্বিবেচনা হতে পারে। একই সঙ্গে গাজা উপত্যকা নিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যৌথ কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং লেবানন সীমান্তে নিরাপত্তা সমঝোতা জোরদারের নতুন পথ খুলতে পারে। তবে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে দখলদারির অবসান ও দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রশ্নে বিরোধী জোটের দলগুলোর ভেতরেও মতপার্থক্য থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আমূল পরিবর্তন আনা কঠিন হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।