ঢাকা    বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষোভ প্রকাশ

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষোভ প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নিয়ে অতিরিক্ত তদবির, অনৈতিক চাপ এবং শিক্ষক নেতাদের হুমকির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে অনুষ্ঠিত ৩৯২টি বিভিন্ন আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়ার অতীত ও বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এমপিও শিক্ষকদের ট্রান্সফার নিয়ে আমার মাথায় প্রচণ্ড বোঝা চেপে বসেছে। বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে আমি যখন দায়িত্বে ছিলাম, তখন এনটিআরসিএ গঠন করেছিলাম। মূল কাঠামো ছিল—এনটিআরসিএ যোগ্যতার সনদ দেবে এবং প্রার্থীরা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট কমিটির কাছে আবেদন করে নিয়োগ নেবেন। কিন্তু বিগত সরকার ঢালাওভাবে সনদ, পদায়ন ও যত্রতত্র পোস্টিং দিয়েছে।”

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “কচুয়ার শিক্ষক পোস্টিং নিয়েছেন রংপুরে, রংপুরের জন বরিশালে, আর বরিশালের জন খাগড়াছড়িতে। দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি উপলব্ধি করে আমি নিয়মমাফিক নিজ এলাকায় বদলির উদ্যোগ নিলাম এবং স্বচ্ছতার জন্য একটি বিশেষ অ্যাপস তৈরি করলাম। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে সবাই রাজধানীর শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বদলি হতে চান। কচুয়া থেকে আবেদন আসে ভিকারুননিসা, আইডিয়াল স্কুল, মনিপুর কিংবা শাহীন স্কুলে বদলির জন্য।”

বদলির দাবিতে শিক্ষক নেতাদের অপেশাদার আচরণের সমালোচনা করে ড. মিলন ক্ষোভের সাথে বলেন, “এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নেতা সেজে আমাকে পর্যন্ত হুমকি দেন—৩১ অক্টোবরের মধ্যে বদলি না হলে দেখে নেওয়া হবে! শিক্ষকদের দায়িত্ব ক্লাসরুমে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা, মন্ত্রণালয়ে এসে মন্ত্রীকে হুমকি দেওয়া নয়। বদলির বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক এখতিয়ার এবং নিয়মমাফিক তা সম্পন্ন করা হবে।”

শিক্ষা খাতকে ঘিরে ধারাবাহিক রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দেশটা আজ কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে! এ পর্যন্ত সারা দেশে ৩৯২টি আন্দোলন হয়েছে, যার প্রতিটিরই মূল টার্গেট করা হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে।” তিনি শিক্ষকদের নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ধৈর্য ধরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

ট্যাগ : শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষোভ প্রকাশ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নিয়ে অতিরিক্ত তদবির, অনৈতিক চাপ এবং শিক্ষক নেতাদের হুমকির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে অনুষ্ঠিত ৩৯২টি বিভিন্ন আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়ার অতীত ও বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এমপিও শিক্ষকদের ট্রান্সফার নিয়ে আমার মাথায় প্রচণ্ড বোঝা চেপে বসেছে। বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে আমি যখন দায়িত্বে ছিলাম, তখন এনটিআরসিএ গঠন করেছিলাম। মূল কাঠামো ছিল—এনটিআরসিএ যোগ্যতার সনদ দেবে এবং প্রার্থীরা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট কমিটির কাছে আবেদন করে নিয়োগ নেবেন। কিন্তু বিগত সরকার ঢালাওভাবে সনদ, পদায়ন ও যত্রতত্র পোস্টিং দিয়েছে।”

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “কচুয়ার শিক্ষক পোস্টিং নিয়েছেন রংপুরে, রংপুরের জন বরিশালে, আর বরিশালের জন খাগড়াছড়িতে। দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি উপলব্ধি করে আমি নিয়মমাফিক নিজ এলাকায় বদলির উদ্যোগ নিলাম এবং স্বচ্ছতার জন্য একটি বিশেষ অ্যাপস তৈরি করলাম। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে সবাই রাজধানীর শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বদলি হতে চান। কচুয়া থেকে আবেদন আসে ভিকারুননিসা, আইডিয়াল স্কুল, মনিপুর কিংবা শাহীন স্কুলে বদলির জন্য।”

বদলির দাবিতে শিক্ষক নেতাদের অপেশাদার আচরণের সমালোচনা করে ড. মিলন ক্ষোভের সাথে বলেন, “এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নেতা সেজে আমাকে পর্যন্ত হুমকি দেন—৩১ অক্টোবরের মধ্যে বদলি না হলে দেখে নেওয়া হবে! শিক্ষকদের দায়িত্ব ক্লাসরুমে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা, মন্ত্রণালয়ে এসে মন্ত্রীকে হুমকি দেওয়া নয়। বদলির বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক এখতিয়ার এবং নিয়মমাফিক তা সম্পন্ন করা হবে।”

শিক্ষা খাতকে ঘিরে ধারাবাহিক রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দেশটা আজ কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে! এ পর্যন্ত সারা দেশে ৩৯২টি আন্দোলন হয়েছে, যার প্রতিটিরই মূল টার্গেট করা হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে।” তিনি শিক্ষকদের নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ধৈর্য ধরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ