গাজীপুরের টঙ্গীতে দৈনিক কালবেলার গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি মহিউদ্দিন রিপনকে অপহরণ করে নির্যাতন, এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং জোরপূর্বক আপত্তিকর ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। মাদক, ছিনতাই ও সন্ত্রাসবিরোধী সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে টঙ্গী বাজারের সেনাকল্যাণ শপিং কমপ্লেক্স-সংলগ্ন হোন্ডা রোডের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মহিউদ্দিন রিপন জানান, সোমবার দুপুরে পেশাগত কাজে টঙ্গী সেনাকল্যাণ শপিং কমপ্লেক্সের সামনে যান তিনি। সেখানে শাহ সিমেন্টের জেনারেল ম্যানেজার আসিফ মাহমুদের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের দিকে রওনা দেওয়ার সময় একদল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ধরে। পরে তাঁর হাত, চোখ ও মুখ বেঁধে মোটরসাইকেলসহ একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
সাংবাদিক রিপনের অভিযোগ, সেখানে তাঁকে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়। পাশাপাশি মাদকবিরোধী সংবাদ প্রকাশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অজ্ঞাত স্থানে এক নারীর সঙ্গে তাঁকে জোরপূর্বক আপত্তিকর অবস্থায় রেখে ভিডিও ধারণ করা হয়। ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টঙ্গীর হাজীর মাজার বস্তি এলাকার মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশ এবং ফেসবুক লাইভ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। এসব বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ অব্যাহত রাখলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
মহিউদ্দিন রিপন আরও বলেন, দুর্বৃত্তরা তাঁর কাছে থাকা দুই লাখ টাকা, মোটরসাইকেলের হেলমেট ও দৈনিক কালবেলার পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেয়। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে নির্যাতনের একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাঁকে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শাহ সিমেন্টের জেনারেল ম্যানেজার আসিফ মাহমুদ বলেন, তিনি সঙ্গে থাকা অবস্থাতেই একদল অপরিচিত ব্যক্তি জোরপূর্বক মহিউদ্দিন রিপনকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে তাঁকেও চুপ থাকার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, তাঁরা ঘটনাটি শুনেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ বিভাগ, উত্তর) এসএম শফিকুল ইসলাম হাসপাতালে সাংবাদিক মহিউদ্দিন রিপনের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে গিয়ে বলেন, একজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপর এমন হামলার নিন্দা জানাই। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
মন্তব্যসমূহ