ঢাকা    সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

টঙ্গীতে শিশুকে নিপীড়নের পরদিন মিষ্টি নিয়ে বাসায় যান শিক্ষক

টঙ্গীতে শিশুকে নিপীড়নের পরদিন মিষ্টি নিয়ে বাসায় যান শিক্ষক
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসায় এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক মোসলেম আহম্মদ (৩০) ঘটনার পরদিন মিষ্টির প্যাকেট হাতে শিশুটির পরিবারের বাসায় গিয়েছিলেন বলে প্রমাণ মিলেছে। শিশুটির পরিবারের নিরাপত্তা ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজে এমন চাঞ্চল্যকর দৃশ্য ধরা পড়েছে। তবে পরিবারের সদস্যরা দরজা না খোলায় দেখা করতে না পেরে তিনি ফিরে যান। বর্তমানে অভিযুক্ত শিক্ষক কারাগারে রয়েছেন। এদিকে ঘটনার পর থেকে মামলা তুলে নিতে এবং অনলাইন থেকে ভিডিও সরিয়ে ফেলতে অনবরত হুমকি পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ২০ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে হাতে লাল রঙের একটি ব্যাগ নিয়ে শিশুটি যে বহুতল ভবনে থাকে, তার নিচতলায় প্রবেশ করেন শিক্ষক মোসলেম আহম্মদ। সেখানে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলে ১২টা ৩৯ মিনিটে তিনি লিফটে ওঠেন। পরে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে শিশুটির মায়ের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি বার্তা পাঠিয়ে তিনি লেখেন, “আপু, আপনার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে আসছি (এসেছি)।” কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে দরজা না খোলায় প্রায় ১০ মিনিট পর তিনি একইভাবে মিষ্টির ব্যাগ হাতে ভবন থেকে বের হয়ে যান।

শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি নিয়ে মামলা হওয়ার পর থেকেই তাঁদের ওপর নানামুখী চাপ শুরু হয়েছে। মোবাইল নম্বর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে অভিযোগ তুলে নিতে এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ডিলিট করার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। শিশুটির বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সারাক্ষণ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমার এই বিচার চাওয়ার প্রতিবাদ কোনো আলেম সমাজের বিরুদ্ধে নয়, এটি লেবাসধারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে।”

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করেন শিক্ষক মোসলেম। পরদিন বিষয়টি প্রকাশ পেলে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয় এবং স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে। এ সংক্রান্ত ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ২১ অক্টোবর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। গত রোববার আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।

হুমকির বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, উভয় পক্ষ থেকেই মৌখিকভাবে পাল্টাপাল্টি হুমকির অভিযোগ করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়নি; লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ : টঙ্গী মাদ্রাসা ঘটনা শিক্ষক মোসলেম

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


টঙ্গীতে শিশুকে নিপীড়নের পরদিন মিষ্টি নিয়ে বাসায় যান শিক্ষক

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসায় এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক মোসলেম আহম্মদ (৩০) ঘটনার পরদিন মিষ্টির প্যাকেট হাতে শিশুটির পরিবারের বাসায় গিয়েছিলেন বলে প্রমাণ মিলেছে। শিশুটির পরিবারের নিরাপত্তা ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজে এমন চাঞ্চল্যকর দৃশ্য ধরা পড়েছে। তবে পরিবারের সদস্যরা দরজা না খোলায় দেখা করতে না পেরে তিনি ফিরে যান। বর্তমানে অভিযুক্ত শিক্ষক কারাগারে রয়েছেন। এদিকে ঘটনার পর থেকে মামলা তুলে নিতে এবং অনলাইন থেকে ভিডিও সরিয়ে ফেলতে অনবরত হুমকি পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ২০ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে হাতে লাল রঙের একটি ব্যাগ নিয়ে শিশুটি যে বহুতল ভবনে থাকে, তার নিচতলায় প্রবেশ করেন শিক্ষক মোসলেম আহম্মদ। সেখানে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলে ১২টা ৩৯ মিনিটে তিনি লিফটে ওঠেন। পরে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে শিশুটির মায়ের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি বার্তা পাঠিয়ে তিনি লেখেন, “আপু, আপনার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে আসছি (এসেছি)।” কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে দরজা না খোলায় প্রায় ১০ মিনিট পর তিনি একইভাবে মিষ্টির ব্যাগ হাতে ভবন থেকে বের হয়ে যান।

শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি নিয়ে মামলা হওয়ার পর থেকেই তাঁদের ওপর নানামুখী চাপ শুরু হয়েছে। মোবাইল নম্বর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে অভিযোগ তুলে নিতে এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ডিলিট করার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। শিশুটির বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সারাক্ষণ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমার এই বিচার চাওয়ার প্রতিবাদ কোনো আলেম সমাজের বিরুদ্ধে নয়, এটি লেবাসধারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে।”

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করেন শিক্ষক মোসলেম। পরদিন বিষয়টি প্রকাশ পেলে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয় এবং স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে। এ সংক্রান্ত ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ২১ অক্টোবর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। গত রোববার আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।

হুমকির বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, উভয় পক্ষ থেকেই মৌখিকভাবে পাল্টাপাল্টি হুমকির অভিযোগ করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়নি; লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ