বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রশিক্ষণ সক্ষমতা, আধুনিক কারিগরি শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বহুমুখী কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন চার বন্ধুপ্রতিম দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) গাজীপুরের সফিপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমি এবং প্রান্তিক শক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (পিএসটিসি) পরিদর্শন করেন সিঙ্গাপুর, মরক্কো, কসোভো ও মালদ্বীপের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান। তিনি বাহিনীর প্রশিক্ষণ অবকাঠামো, আধুনিকায়ন, বিশেষায়িত কর্মমুখী কারিগরি শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে সদস্যদের কর্মসংস্থানের বিপুল সম্ভাবনার দিকগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
মহাপরিচালক জানান, আনসার বাহিনীর লক্ষ্য কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি দক্ষতায় রূপান্তর করা অন্যতম জাতীয় অগ্রাধিকার। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং বৈশ্বিক মানদণ্ড মেনে নৈতিক অভিবাসন (Ethical Migration) নিশ্চিত করতে জাপানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশের সাথে সক্রিয় অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করছে বাহিনীটি।
সফিপুরে অবস্থানকালে বিদেশি প্রতিনিধিদলটি ৬জি ওয়েল্ডিং কর্মশালা, পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ ও সবুজ জ্বালানি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, আধুনিক ড্রাইভিং সিমুলেটর, ভ্রাম্যমাণ তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ বাস, ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্প, জাপানি ভাষা শিক্ষা, হসপিটালিটি এবং রন্ধনশিল্পের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। এ ছাড়া নির্মাণ খাত, ভারী যানবাহন চালনা এবং তৈরি পোশাকশিল্পের বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ প্রত্যক্ষ করেন তাঁরা। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও প্রশিক্ষণের সামগ্রিক মান দেখে প্রতিনিধিরা গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।
বাহিনীর প্রধান আরও বলেন, দেশজুড়ে বিস্তৃত বাহিনীর ৬০ লাখেরও বেশি সদস্যের বিশাল প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা তৈরি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব এশিয়াসহ উন্নত বিশ্বের শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এ পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনীন রশিদ, কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা, সিঙ্গাপুরের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ফিলিপ ওং এবং মরক্কোর রাষ্ট্রদূত লাল্লা বুতাইনা এল কেরদৌদি এল কৌলালি।
মন্তব্যসমূহ