গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য এক চরম লজ্জা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। একই সঙ্গে তিনি এ ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
বিবৃতিতে জি এম কাদের বলেন, পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অন্যতম বাদী ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন। একজন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাকে মৃত্যুর পরও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে নির্বিঘ্নে সমাহিত করতে না দেওয়া মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধের চরম অবমাননা।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, মৃত্যুর প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পুলিশ পাহারায় মানিক পশারীকে দাফন করা হয়। আরও মর্মান্তিক বিষয় হলো, স্থানীয় প্রতিপক্ষরা খোঁড়া কবর মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়ার পর নিহতের মেয়ে ও দুই বোন শেষ পর্যন্ত মুঠোফোনের আলো জ্বালিয়ে নিজেরাই মাটি খুঁড়ে কবর প্রস্তুত করেন। এমন দৃশ্য কেবল হৃদয়বিদারকই নয়, বরং একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ও সভ্য সমাজের জন্য মারাত্মক অশনিসংকেত।
পিরোজপুরে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়ে জি এম কাদের বলেন, কোনো রাজনৈতিক বিরোধ বা আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে একজন মৃত ব্যক্তির শেষ সম্মানে আঘাত হানা এবং শোকাহত পরিবারকে হেনস্তা করার অধিকার কারও নেই। এটি দেশের ধর্মীয় অনুশাসন ও সামাজিক সম্প্রীতির পরিপন্থি।
পুলিশ লাইন্সে গোপনে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়ার ঘটনাকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান কেন লোকচক্ষুর আড়ালে দিতে হবে? এমন পদক্ষেপ মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা রক্ষায় প্রশাসনের দৃঢ়তাকেই বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। কোনো অপশক্তির চাপের কাছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নতি স্বীকার করতে পারে না।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জোর দিয়ে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের উপযুক্ত সম্মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান করা বর্তমান সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সরকার এ ধরনের ঘটনার দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। তিনি অবিলম্বে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, মানিক পশারীর পরিবারের নিরাপত্তা এবং মানবতাবিরোধী মামলার সাক্ষীদের স্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পরিশেষে তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর রুহের মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
মন্তব্যসমূহ