ঢাকা    রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতেই পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ শুরু: পানিসম্পদমন্ত্রী

জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতেই পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ শুরু: পানিসম্পদমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় সাত কোটি মানুষের জীবনমান ও আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। প্রকল্পটির দুই পর্যায়ে মোট ব্যয় হতে পারে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া কাঞ্চন পার্ক এলাকায় পদ্মা নদীর তীরে প্রস্তাবিত ব্যারেজ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। পরে প্রকল্পের কারিগরি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আয়োজিত আলোচনায় তিনি এসব তথ্য জানান।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচিত হওয়ার মাত্র আড়াই মাসের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পটিকে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রকল্পের অর্থায়ন সম্পর্কে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানান, প্রথম পর্যায়ের জন্য ইতোমধ্যে ৩৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজসহ পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে এখন পর্যন্ত আনুমানিক ৫০ থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব রাখা হয়েছে।

নির্ধারিত অর্থের মধ্যেই প্রকল্পটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি বড় জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন পানিসম্পদমন্ত্রী।

প্রকল্প পরিচালকের ব্যাখ্যা তুলে ধরে তিনি জানান, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় সাত কোটি মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

বিশেষ করে ওই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সুবিধাবঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

কারিগরি আলোচনায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পরিচালক হাসান মাহমুদ জানান, নদীর গভীরতা ও অবস্থাগত পরিবর্তনের কারণে আগের পরিকল্পনায় কিছু সংশোধন আনা প্রয়োজন হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালে পদ্মা ব্যারেজের যে নকশা তৈরি করা হয়েছিল, নদীর গভীরতা পরিবর্তনের ফলে সেটির অবস্থানসংক্রান্ত কিছু বিষয় নতুনভাবে বিবেচনা করতে হচ্ছে।

আগামী দেড় বছরের মধ্যে প্রকল্পের সব সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক।

পদ্মা ব্যারেজের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা।

প্রকল্প পরিচালক হাসান মাহমুদ জানান, ব্যারেজ নির্মাণের পর উজানের প্রায় ১৬৫ কিলোমিটার নদীপথে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

তবে পানি সংরক্ষণের ফলে নদীতে পানির চাপ ও উচ্চতা বাড়বে। এ কারণে পাবনাসহ আশপাশের এলাকার শহররক্ষা বাঁধগুলোর উচ্চতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন হবে।

প্রকল্পের পরিকল্পনায় এসব বিষয় বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

পদ্মা ব্যারেজের কারণে বন্যার আশঙ্কা নিয়ে কারিগরি আলোচনায় বক্তব্য দেন প্রকল্প পরিচালক।

তিনি জানান, বর্ষা মৌসুমে ব্যারেজের ৭৮টি গেটই খোলা রাখা হবে। ফলে পানি প্রবাহের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কম থাকবে বলে তাঁর ধারণা।

এ ব্যবস্থা গ্রহণের কারণে প্রকল্পের ফলে বন্যার তেমন ঝুঁকি তৈরি হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন হাসান মাহমুদ।

পদ্মা ব্যারেজের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন ও কারিগরি আলোচনায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. একেএম শাহাবুদ্দিন এবং প্রকল্প পরিচালক হাসান মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরেফা সুলতানা রুমা, জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার এবং বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরুর পাশাপাশি কারিগরি সমীক্ষা, নদীর পানি সংরক্ষণ এবং আশপাশের এলাকার সুরক্ষার বিষয়গুলো নিয়েও কাজ চলছে বলে আলোচনায় জানানো হয়।

ট্যাগ : পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় পদ্মা ব্যারেজ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতেই পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ শুরু: পানিসম্পদমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় সাত কোটি মানুষের জীবনমান ও আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। প্রকল্পটির দুই পর্যায়ে মোট ব্যয় হতে পারে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া কাঞ্চন পার্ক এলাকায় পদ্মা নদীর তীরে প্রস্তাবিত ব্যারেজ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। পরে প্রকল্পের কারিগরি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আয়োজিত আলোচনায় তিনি এসব তথ্য জানান।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচিত হওয়ার মাত্র আড়াই মাসের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পটিকে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রকল্পের অর্থায়ন সম্পর্কে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানান, প্রথম পর্যায়ের জন্য ইতোমধ্যে ৩৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজসহ পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে এখন পর্যন্ত আনুমানিক ৫০ থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব রাখা হয়েছে।

নির্ধারিত অর্থের মধ্যেই প্রকল্পটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি বড় জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন পানিসম্পদমন্ত্রী।

প্রকল্প পরিচালকের ব্যাখ্যা তুলে ধরে তিনি জানান, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় সাত কোটি মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

বিশেষ করে ওই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সুবিধাবঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

কারিগরি আলোচনায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পরিচালক হাসান মাহমুদ জানান, নদীর গভীরতা ও অবস্থাগত পরিবর্তনের কারণে আগের পরিকল্পনায় কিছু সংশোধন আনা প্রয়োজন হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালে পদ্মা ব্যারেজের যে নকশা তৈরি করা হয়েছিল, নদীর গভীরতা পরিবর্তনের ফলে সেটির অবস্থানসংক্রান্ত কিছু বিষয় নতুনভাবে বিবেচনা করতে হচ্ছে।

আগামী দেড় বছরের মধ্যে প্রকল্পের সব সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক।

পদ্মা ব্যারেজের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা।

প্রকল্প পরিচালক হাসান মাহমুদ জানান, ব্যারেজ নির্মাণের পর উজানের প্রায় ১৬৫ কিলোমিটার নদীপথে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

তবে পানি সংরক্ষণের ফলে নদীতে পানির চাপ ও উচ্চতা বাড়বে। এ কারণে পাবনাসহ আশপাশের এলাকার শহররক্ষা বাঁধগুলোর উচ্চতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন হবে।

প্রকল্পের পরিকল্পনায় এসব বিষয় বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

পদ্মা ব্যারেজের কারণে বন্যার আশঙ্কা নিয়ে কারিগরি আলোচনায় বক্তব্য দেন প্রকল্প পরিচালক।

তিনি জানান, বর্ষা মৌসুমে ব্যারেজের ৭৮টি গেটই খোলা রাখা হবে। ফলে পানি প্রবাহের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কম থাকবে বলে তাঁর ধারণা।

এ ব্যবস্থা গ্রহণের কারণে প্রকল্পের ফলে বন্যার তেমন ঝুঁকি তৈরি হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন হাসান মাহমুদ।

পদ্মা ব্যারেজের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন ও কারিগরি আলোচনায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. একেএম শাহাবুদ্দিন এবং প্রকল্প পরিচালক হাসান মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরেফা সুলতানা রুমা, জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার এবং বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরুর পাশাপাশি কারিগরি সমীক্ষা, নদীর পানি সংরক্ষণ এবং আশপাশের এলাকার সুরক্ষার বিষয়গুলো নিয়েও কাজ চলছে বলে আলোচনায় জানানো হয়।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ