ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ভিসামুক্ত ভ্রমণে চীনে বিদেশিদের আগমন বেড়েছে ২৪ শতাংশ

ভিসামুক্ত ভ্রমণে চীনে বিদেশিদের আগমন বেড়েছে ২৪ শতাংশ
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর পর চীনে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে দেশটিতে ভিসামুক্ত বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে মোট বিদেশি নাগরিকদের আগমনও বেড়েছে ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চীনের জাতীয় অভিবাসন প্রশাসনের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে চীনের সীমান্ত দিয়ে মোট ১৯ কোটি ২০ লাখ বার প্রবেশ ও বহির্গমনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।

একই সময়ে চীনে বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৬ লাখে। এর মধ্যে প্রায় ৮৯ লাখ ৯২ হাজার প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে ভিসামুক্ত সুবিধায়।

অর্থাৎ, তৃতীয় প্রান্তিকে বিদেশি নাগরিকদের মোট প্রবেশের ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশই ছিল ভিসামুক্ত। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সুবিধায় প্রবেশের সংখ্যা বেড়েছে ২৪ দশমিক ১ শতাংশ।

চীনের জাতীয় অভিবাসন প্রশাসনের তথ্য বলছে, দেশটিতে বিদেশি পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের সবচেয়ে বড় তিনটি উৎসদেশ রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনাম।

এরপর রয়েছে মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, মঙ্গোলিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। বিদেশি নাগরিকদের মোট আগমনের ৬৩ দশমিক ৯ শতাংশ এসেছে এই দশটি দেশ থেকে।

চীনের জাতীয় অভিবাসন প্রশাসনের মুখপাত্র লু নিং জানিয়েছেন, বিদেশিদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সহজ করার নীতি সীমান্ত পারাপার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

শুধু বিদেশিদের চীন ভ্রমণই নয়, চীনা নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণও বেড়েছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মূল ভূখণ্ডের চীনা নাগরিকদের বিদেশে যাওয়ার সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ কোটি ৮৫ লাখ, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

চীনা নাগরিকদের জনপ্রিয় বিদেশি গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে হংকং, ম্যাকাও, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, জাপান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, রাশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া।

গত কয়েক বছরে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে ভিসানীতিতে একাধিক পরিবর্তন এনেছে বেইজিং। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি দেশের নাগরিকদের একতরফা ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার পর এর পরিধি ক্রমাগত বাড়ানো হয়েছে।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য একতরফা ভিসামুক্ত প্রবেশের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করেছে চীন। যোগ্য ভ্রমণকারীরা এই সুবিধায় সর্বোচ্চ ৩০ দিন অবস্থান করতে পারেন।

পাশাপাশি নির্দিষ্ট দেশের যাত্রীদের জন্য ভিসামুক্ত ট্রানজিটের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। আগে ৭২ বা ১৪৪ ঘণ্টার সুযোগ থাকলেও ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে তা বাড়িয়ে ২৪০ ঘণ্টা করা হয়। বর্তমানে ৫৭টি দেশের নাগরিক এই ট্রানজিট সুবিধার আওতায় রয়েছেন।

পর্যটন খাত সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতেও গুরুত্ব দিচ্ছে চীন। দেশটির স্টেট কাউন্সিল ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ১৯ কোটি বিদেশি পর্যটক আগমন এবং বিদেশি পর্যটকদের বার্ষিক ব্যয় ১৫ হাজার কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভিসামুক্ত সুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিদেশিদের জন্য ডিজিটাল পেমেন্ট সহজ করা এবং কেনাকাটায় কর ফেরতের সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বিদেশে চীনা কোম্পানিগুলোর ব্যবসা সম্প্রসারণও আন্তর্জাতিক যাতায়াত বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। এর ফলে পর্যটনের পাশাপাশি ব্যবসা ও ট্রানজিটের জন্যও চীনের সীমান্ত ব্যবহার বাড়ছে।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধার সম্প্রসারণ চীনে বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠেছে।

ট্যাগ : চীন বিদেশি পর্যটক আন্তর্জাতিক ভ্রমণ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


ভিসামুক্ত ভ্রমণে চীনে বিদেশিদের আগমন বেড়েছে ২৪ শতাংশ

প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর পর চীনে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে দেশটিতে ভিসামুক্ত বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে মোট বিদেশি নাগরিকদের আগমনও বেড়েছে ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চীনের জাতীয় অভিবাসন প্রশাসনের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে চীনের সীমান্ত দিয়ে মোট ১৯ কোটি ২০ লাখ বার প্রবেশ ও বহির্গমনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।

একই সময়ে চীনে বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৬ লাখে। এর মধ্যে প্রায় ৮৯ লাখ ৯২ হাজার প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে ভিসামুক্ত সুবিধায়।

অর্থাৎ, তৃতীয় প্রান্তিকে বিদেশি নাগরিকদের মোট প্রবেশের ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশই ছিল ভিসামুক্ত। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সুবিধায় প্রবেশের সংখ্যা বেড়েছে ২৪ দশমিক ১ শতাংশ।

চীনের জাতীয় অভিবাসন প্রশাসনের তথ্য বলছে, দেশটিতে বিদেশি পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের সবচেয়ে বড় তিনটি উৎসদেশ রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনাম।

এরপর রয়েছে মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, মঙ্গোলিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। বিদেশি নাগরিকদের মোট আগমনের ৬৩ দশমিক ৯ শতাংশ এসেছে এই দশটি দেশ থেকে।

চীনের জাতীয় অভিবাসন প্রশাসনের মুখপাত্র লু নিং জানিয়েছেন, বিদেশিদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সহজ করার নীতি সীমান্ত পারাপার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

শুধু বিদেশিদের চীন ভ্রমণই নয়, চীনা নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণও বেড়েছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মূল ভূখণ্ডের চীনা নাগরিকদের বিদেশে যাওয়ার সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ কোটি ৮৫ লাখ, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

চীনা নাগরিকদের জনপ্রিয় বিদেশি গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে হংকং, ম্যাকাও, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, জাপান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, রাশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া।

গত কয়েক বছরে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে ভিসানীতিতে একাধিক পরিবর্তন এনেছে বেইজিং। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি দেশের নাগরিকদের একতরফা ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার পর এর পরিধি ক্রমাগত বাড়ানো হয়েছে।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য একতরফা ভিসামুক্ত প্রবেশের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করেছে চীন। যোগ্য ভ্রমণকারীরা এই সুবিধায় সর্বোচ্চ ৩০ দিন অবস্থান করতে পারেন।

পাশাপাশি নির্দিষ্ট দেশের যাত্রীদের জন্য ভিসামুক্ত ট্রানজিটের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। আগে ৭২ বা ১৪৪ ঘণ্টার সুযোগ থাকলেও ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে তা বাড়িয়ে ২৪০ ঘণ্টা করা হয়। বর্তমানে ৫৭টি দেশের নাগরিক এই ট্রানজিট সুবিধার আওতায় রয়েছেন।

পর্যটন খাত সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতেও গুরুত্ব দিচ্ছে চীন। দেশটির স্টেট কাউন্সিল ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ১৯ কোটি বিদেশি পর্যটক আগমন এবং বিদেশি পর্যটকদের বার্ষিক ব্যয় ১৫ হাজার কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভিসামুক্ত সুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিদেশিদের জন্য ডিজিটাল পেমেন্ট সহজ করা এবং কেনাকাটায় কর ফেরতের সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বিদেশে চীনা কোম্পানিগুলোর ব্যবসা সম্প্রসারণও আন্তর্জাতিক যাতায়াত বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। এর ফলে পর্যটনের পাশাপাশি ব্যবসা ও ট্রানজিটের জন্যও চীনের সীমান্ত ব্যবহার বাড়ছে।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধার সম্প্রসারণ চীনে বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠেছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ