মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সমঝোতার পর যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল সরবরাহ শুরু করতে যাচ্ছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে প্রথম ডিজেলবাহী ট্যাংকার পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে মস্কো। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন সহযোগিতার সূচনা হচ্ছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক এই তথ্য জানান। রুশ সংবাদমাধ্যম ভেদোমোস্তির বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রথম জাহাজটির ধারণক্ষমতা প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন। জ্বালানি সরবরাহের প্রয়োজনীয় চুক্তি ও কাগজপত্র চূড়ান্ত করার কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
নোভাক জানান, প্রথম চালানের পর আরও ডিজেলবাহী ট্যাংকার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে পাঠানো হবে। দুই দেশের প্রেসিডেন্টের মধ্যে হওয়া সমঝোতার ভিত্তিতেই এসব সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে।
রাশিয়া নিজেদের উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি চাহিদা পূরণের চেষ্টা করবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে গত ৯ অক্টোবর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর ডিজেল সরবরাহের সমঝোতার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, রাশিয়া অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে তিন লাখ মেট্রিক টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। এই পরিমাণ প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলের সমান।
এরপর নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ মেট্রিক টন এবং পরবর্তী পর্যায়ে অতিরিক্ত ১০ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। রাশিয়ার শোধনাগারগুলোর সক্ষমতা অনুযায়ী আরও চালান পাঠানোর সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এই সমঝোতার আগে রাশিয়া নিজস্ব জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ডিজেল রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল।
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় দেশটির কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহে চাপ তৈরি হয়। অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে মস্কো।
তবে ট্রাম্পের সঙ্গে নতুন সমঝোতার পর গত ৯ অক্টোবর রাশিয়া ডিজেল রপ্তানির ওপর নিজেদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও রুশ ডিজেল কেনাবেচার ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করে।
এদিকে বুধবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।
বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনা হয়। রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তের জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান উইটকফ।
পুতিনের দাবি, ডিজেল সরবরাহ নিয়ে সমঝোতার পর বিশ্ববাজারে এই জ্বালানির দাম পাঁচ থেকে ছয় শতাংশ কমেছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট জানান, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে কয়েকটি ডিজেলবাহী ট্যাংকার যাত্রা শুরু করবে। পর্যায়ক্রমে আরও জাহাজ পাঠানোর প্রস্তুতি রয়েছে।
তবে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা চূড়ান্ত করা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ডিজেলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিপুল পরিমাণ সার সরবরাহ করার সক্ষমতা রাশিয়ার রয়েছে বলে জানান পুতিন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন জ্বালানি সমঝোতাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।
ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা দুর্বল করতে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চলছিল। এমন পরিস্থিতিতে রুশ ডিজেল আমদানির জন্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে সমালোচনা এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল সরবরাহের নতুন উদ্যোগ বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কতটা কমাতে পারবে, তা নিয়ে অবশ্য অনিশ্চয়তা রয়েছে। ঘোষিত সরবরাহের পরিমাণ ও বিশ্ববাজারের চাহিদা বিবেচনায় এর প্রভাব সীমিত হতে পারে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
তবে ট্রাম্প-পুতিন সমঝোতার পর রাশিয়ার প্রথম ডিজেলবাহী ট্যাংকার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রার প্রস্তুতি নেওয়ায় দুই দেশের জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ