ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবের পক্ষে মিসরের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরানের মতে, এমনিতেই জটিল হয়ে ওঠা ইয়েমেন সংঘাতে নতুন কোনো বিদেশি শক্তি যুক্ত হলে সংকট সমাধানের পথ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইরাকের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আল-ইরাকিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) তাঁর বক্তব্যের তথ্য প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
মিসরের সম্ভাব্য সামরিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আরাগচি বলেন, “এ ধরনের অত্যন্ত জটিল সংঘাতে জড়িয়ে পড়া এড়াতে মিসরের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে।”
ইয়েমেনে বিদেশি শক্তির সামরিক উপস্থিতি সংকট নিরসনে সহায়ক হবে না বলেও মন্তব্য করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, বিদেশি কোনও শক্তির উপস্থিতি কিংবা হস্তক্ষেপ এই সংকটের সমাধানকে আরও কঠিন করে তুলবে।”
আরাগচির দাবি, মিসর এর আগে তেহরানকে জানিয়েছিল, তারা ইয়েমেনে সরাসরি প্রবেশ করবে না কিংবা দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেবে না।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় মিসরের সম্ভাব্য সামরিক সহায়তা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবে ধারাবাহিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে মিসরের সামরিক বাহিনীকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে কায়রো।
মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। দেশটির পার্লামেন্টেও এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।
এর আগে মিসরের পার্লামেন্টে সৌদি আরবকে সম্ভাব্য সামরিক সহায়তা দেওয়ার অনুমোদনসংক্রান্ত ভোটাভুটির উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত ভোট পিছিয়ে আগামী ২৬ অক্টোবর করা হয়েছে।
পার্লামেন্টের ওই ভোটের মাধ্যমে প্রয়োজন হলে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় মিসরীয় সেনাবাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ইয়েমেন সংঘাতে মিসরের সরাসরি অংশগ্রহণ নতুন আঞ্চলিক সংকট তৈরি করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
আরাগচি একই সঙ্গে ইয়েমেন যুদ্ধ বন্ধে ইরানের কূটনৈতিক উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সংঘাত নিরসনে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের কাছ থেকেই আনুষ্ঠানিক সাড়া পাওয়া যায়নি।
ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে সৌদি আরব ও হুথিদের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও ইয়েমেনে সামরিক অভিযান চালিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মিসর সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে সংঘাতের পরিধি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে তেহরান।
তবে সৌদি আরবকে মিসর শেষ পর্যন্ত কী ধরনের সামরিক সহায়তা দেবে কিংবা সরাসরি সেনা মোতায়েন করবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: এএফপি
মন্তব্যসমূহ